দুধের শিশুসহ কারাগারে পাঠানো সেই ফাতেমার জামিন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৫

স্বামী হত্যায় অভিযুক্তদের পরিবারের করা মামলায় দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ কারান্তরীণ ফাতেমা বেগম অবশেষে জামিন পেয়েছেন। ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ সাত দিন কারাভোগের পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তার জামিন মঞ্জুর করেন মহেশখালীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইনের আদালত।

একই দিন বিকেলের পর ফাতেমা মুক্তি পেয়েছেন।

ফাতেমার আইনজীবী মো. আনছার জানান, এক হাজার টাকা বন্ডে স্থানীয় একজন গণ্যমান্য ব্যক্তির জিম্মায় তার জামিন মঞ্জুর হয়েছে। জামিনের কাগজপত্র নিয়ে কারাগারে যাওয়ার পৌছালে সোমবার বিকেলের পর ফাতেমা মুক্তি পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

ফাতেমার পরিবার ও স্থানীয়দের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল কক্সবাজারের মহেশখালীর কুতুবজোম ইউনিয়নের কবির বাজারে ফিশিংবোটের শ্রমিক মুহাম্মদ কাশেমকে কথা কাটাকাটির জেরে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন তার স্ত্রী ফাতেমা বেগম বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় স্থানীয় রাসেলসহ ১০ জনকে আসামি করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় চার মাস পর, ২০২৫ সালের ৩ আগস্ট কাশেম হত্যায় অভিযুক্ত ৪ নম্বর আসামি রাসেলের মা নুর জাহান বেগম ফাতেমাসহ সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে পাল্টা মামলা করেন। অভিযোগে বলা হয়, ওই বছরের ২৪ মে তারা রাসেলের বাড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছেন।

মামলাটি তদন্ত করে মহেশখালী থানার এসআই মো. মোজাহেরুল ইসলাম ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দেন। এতে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে মামলার তদন্ত প্রতিবেদনে সাক্ষী হিসেবে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের কয়েকজন দাবি করেছেন, তারা ওই মামলায় কোনো সাক্ষ্য দেননি। তাদের ভাষ্য, ২০২৫ সালের ২৪ মে রাসেলের বাড়িতে ভাঙচুর বা লুটপাটের কোনো ঘটনাও ঘটেনি।

অন্যদিকে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মোজাহেরুল ইসলাম দাবি করেন, সাক্ষীদের বক্তব্যের ভিত্তিতেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।

এই মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর গত ৩১ আগস্ট রাতে ফাতেমা, তার শাশুড়ি রাশেদা বেগম ও বেড়াতে আসা মেয়ে নাছিমা আকতারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন আদালতে হাজির করা হলে রাশেদা বেগম ও নাছিমা জামিন পেলেও ১৫ মাস বয়সী শিশুসহ ফাতেমাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

ফাতেমা কারাগারে যাওয়ার পর তার দুই স্কুলপড়ুয়া মেয়েকেও এতিমখানায় রাখা হয়। বড় মেয়ে রাজমিন আকতার চতুর্থ শ্রেণিতে এবং ছোট মেয়ে মিশকাত জান্নাত প্রথম শ্রেণিতে পড়ে।

ফাতেমার আইনজীবী মো. আনছার বলেন, প্রতিপক্ষের করা মামলায় সাত দিন কারাগারে থাকার পর সোমবার আদালত ফাতেমাকে জামিন দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, ৭ সেপ্টেম্বর এ দুগ্ধপোষ্য শিশুসহ ফাতেমার কারাভোগের বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মাঝে ফাতেমা কারামুক্তি পেয়েছেন।

অবশ্য বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখার পর কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এম এ মান্নান জেলা লিগ্যাল এইডকে নির্দেশনা দেন ফাতেমাকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দিতে। বিষয়টি দেখভাল করতে জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিকেও অনুরোধ করেন ডিসি। সবকিছু মিলিয়ে হতদরিদ্র পরিবারের স্বামীহারা বধু ফাতেমা মুক্তি পেয়েছেন।

জেলা প্রশাসক এম এ মান্নান বলেন, দুগ্ধপোষ্য সন্তান নিয়ে একজন মায়ের কারাবাস আমাদের কাছে অমানবিক মনে হয়েছে। ওনি জামিন পেয়েছেন, এটা সুখবর। মামলার বিষয়টা ওনি লিগ্যাল এইডের সাহায্যে মিউচ্যুয়াল করতে পারেন।

ইত্তেফাক/এপি