সারা বছরই ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু, এক সপ্তাহে ২৪ প্রাণহানি

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৩

মৌসুমি রোগ হিসেবে পরিচিত ডেঙ্গু এখন আর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সারা বছরই কমবেশি প্রকোপ থাকছে এই রোগের, যা জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে। চলতি বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। বছরের শুরুর দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে ডেঙ্গুতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৩ হাজারের বেশি রোগী। এই সময়ে মৃত্যু হয়েছে ১২১ জনের। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন প্রায় ৪১ হাজার রোগী, বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এক হাজার ৩১৪ জন।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে মৃত্যুর হার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী। জুনে ১৩ জন, জুলাইয়ে ৩৬ জন এবং সবশেষ আগস্টে সর্বোচ্চ ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি সেপ্টেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহেই মারা গেছেন ২৪ জন। এ মাসের প্রথম চার দিনের প্রতিদিনই হাজারের বেশি রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন, যা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এ প্রসঙ্গে ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. এম এ হাসনাত বলেন, মানুষের মধ্যে আতঙ্ক থাকলেও প্রয়োজনীয় সচেতনতার ঘাটতি রয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশার প্রজননক্ষেত্র আগেভাগে ধ্বংস করা এবং জ্বর দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে তা ডেঙ্গু কি না নিশ্চিত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে অন্তত ১০ শতাংশ শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য সংরক্ষিত রাখার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানান, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোতে মশারি নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে রোগ পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার নির্দেশনা এবং প্রতিটি হাসপাতালে ১০ শতাংশ শয্যা ডেঙ্গু রোগীদের জন্য রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু মোকাবিলায় স্বাস্থ্য বিভাগের পর্যাপ্ত প্রস্তুতি রয়েছে। তাই আতঙ্কিত না হয়ে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

ইত্তেফাক/আইএ