আইফেল টাওয়ারে হিন্দু দর্শনার্থীদের সফরে নারীদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায় নিল না ভারত

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৯

আইফেল টাওয়ারে হিন্দু দর্শনার্থীদের সফরের সময় নারী কর্মীদের দূরে সরিয়ে দেয়ার ঘটনায় বিতর্ক বেশ বড়সড় আকার ধারণ করেছে। তবে বিষয়টি থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে নিয়েছে ভারত। নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ভারত বলেছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার বিষয় এবং এ নিয়ে সরকারের মন্তব্য করার কোনো কারণ নেই।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, প্যারিস এলাকায় বিএপিএসের একটি মন্দির উদ্বোধনের বিষয়ে ভারত অবগত রয়েছে। তবে আইফেল টাওয়ারের ঘটনাটি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যকার বিষয়।

তিনি বলেন, ‘টাওয়ার-সংক্রান্ত নির্দিষ্ট বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যকার বিষয়।’

বিএপিএসের মন্দির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভার্চুয়াল বক্তব্য নিয়েও প্রশ্ন করা হয় জয়সওয়ালকে। জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা জানানো একটি সাধারণ রীতি। এ ক্ষেত্রেও তিনি ভার্চুয়ালি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এ নিয়ে মন্তব্য করার কোনো কারণ নেই।

এর আগে অভিযোগ ওঠে, বিএপিএসের প্রতিনিধিদল আইফেল টাওয়ার পরিদর্শনে গেলে সেখানে কর্মরত কয়েকজন নারীকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। কয়েকজনকে নিজ নিজ দায়িত্বস্থল ছেড়ে অন্য এলাকায় যেতে বলা হয়। কিছু ক্ষেত্রে নারী কর্মীদের পরিবর্তে পুরুষ কর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে আইফেল টাওয়ারের কর্মীরা ধর্মঘটে যান। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, সফরের সময় লিঙ্গের ভিত্তিতে নারী কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে, তাদের বদলে পুরুষদের দায়িত্ব দেওয়া এবং তাদের ‘অদৃশ্য’ করে রাখার মতো পেশাগত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল।

বিএপিএস নিজেদের একটি স্বেচ্ছাসেবী আধ্যাত্মিক সংগঠন হিসেবে পরিচয় দেয়। সংগঠনটি হিন্দু ধর্মীয় মূল্যবোধ, সেবা ও বৈশ্বিক সম্প্রীতির মাধ্যমে সমাজের উন্নয়নে কাজ করে বলে জানায়।

সূত্র: এনডিটিভি

ইত্তেফাক/এসজে