একের পর এক ট্রান্সফরমার চুরি

ওসিকে অযোগ্য অ্যাখা দিয়ে ব্যবস্থা নিতে আদালতের নির্দেশ

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:২৯

সাড়ে ৩ মাসে ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়ার পরও মামলা রেকর্ড না করায় চাঁদপুরের মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন চাঁদপুরের আদালত।

আদালত দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ও অদক্ষ বলে মন্তব্য করে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. নসরুল্লাহর আদালত এ আদেশ দেন। একই আদেশে মামলা হিসেবে নথিভুক্ত না হওয়া ২৩টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় আগামী ৩ কার্যদিবসের মধ্যে এফআইআর রুজুর জন্য ওসিকে নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

চাঁদপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে ওসি কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করে তা তার সার্ভিস বুকে সংরক্ষণ এবং আদালতকে জানাতে বলা হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, চাঁদপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার মতলব উত্তর থানায় ২৫টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় পৃথকভাবে মামলা রুজুর আবেদন করেন। এর মধ্যে ২৩টি আবেদন এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত না করায় ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানকে ব্যক্তিগতভাবে আদালতে হাজির হয়ে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে তিনি আদালতে হাজির হয়ে লিখিত জবাব দিয়ে অব্যাহতি প্রার্থনা করেন।

আদালতের আদেশে বলা হয়, ওসি তার লিখিত জবাবে স্বীকার করেছেন যে এফআইআর রুজুর আবেদনগুলো তিনি পেয়েছিলেন। তবে বাদীর পূর্ণাঙ্গ নাম-ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর না থাকায় মামলা রুজু করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এজাহারে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক বলেও তিনি জবাবে উল্লেখ করেন।

তবে আদালত নথি পর্যালোচনা করে দেখতে পান, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর প্রতিটি আবেদনে ঘটনার স্থান, তারিখ এবং চুরি হওয়া ট্রান্সফরমারের সিরিয়াল নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য উল্লেখ ছিল। ঘটনাস্থল ও সময় সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি— ওসির এমন বক্তব্যও সঠিক নয় বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, ‘নিষ্ক্রিয়, উদাসীন ও দায়িত্বে অবহেলাকারী’ ব্যক্তি থানার ওসির মতো গুরুত্বপূর্ণ অপারেশনাল পদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে অযোগ্য ও অদক্ষ— বিষয়টি আদালতের কাছে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি ও চাঁদপুরের পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এপি