এসআই আলতাফ হত্যায় আরও তিন আসামির স্বীকারোক্তি, দুজনের ৫ দিনের রিমান্ড  

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৫৬

ঢাকার আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় জহুরুল, আপন ও জিহাদ নামের তিন আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ ছাড়া কাশেম আলী ও দদি আল ফায়েত জিত নামের দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার আমিনবাজার পুলিশ ক্যাম্পের এসআই মো. জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করেন। জহুরুল, আপন ও জিহাদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত জহুরুল ও আপনের জবানবন্দি এবং আরেক জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তানভীর আহমেদের আদালত জিহাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। 

প্রসিকিউশন বিভাগের এএসআই আবু বক্কর সিদ্দিক এসব তথ্য জানান।

এসআই আলতাফ হোসেন

এদিকে, রিমান্ডে যাওয়া দুই আসামির মধ্যে কাশেমকে গত মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সদরের বাড়িতলী সাগরনাল এলাকা থেকে এবং জিতকে কুমিল্লা সদর থানার আমড়াতলী এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বুধবার তাদের আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন এসআই মো. জাকির আল আহসান। তবে আদালত আসামিদের কারাগারে পাঠিয়ে বৃহস্পতিবার রিমান্ড শুনানির দিন রাখেন। এ দিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। ঢাকার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়েশা সিদ্দিকার আদালত দুই জনের পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

এএসআই আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, আসামিদের পক্ষে তাদের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল করে জামিন আবেদন করেন। আমরা রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সর্বোচ্চ রিমান্ডের প্রার্থনা করি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত দুই আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ডের আদেশ দেন।

গত মঙ্গলবার মো. আলাউদ্দিন (২৯), মো. আপন (২৬), মো. জিহাদ (২৩), ইমরান হোসেন (২৫), নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. গোলাম রাব্বির (২২) পাঁচ দিন এবং বিল্লাল (৩৪) ও দেলোয়ার (৩৩) তিন দিনের রিমান্ড দেন আদালত। এর আগে সোমবার মামলার প্রধান আসামি জহুরুলের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। আর বুধবার রাকিব মিয়া, ছাব্বির আহম্মেদ ও ওয়াসিমের তিন দিনের রিমান্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

মামলার বিবরণে বলা হয়, ‘গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা দিকে সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় আবুল কালাম আজাদের অটোরিকশার গ্যারেজের সামনে এক ব্যক্তির অটোরিকশা রাখা নিয়ে বিতণ্ডা হয়। সেটি থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য মো. আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে আলতাফ তার ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশনে’ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর হামলা চালান।

মামলায় আরও বলা হয়, আসামিরা আলতাফ হোসেনকে রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। তাকে বাঁচাতে এলে তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করা হয়। এ ছাড়া আসামিরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যান।

আহতদের পরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এ ঘটনায় আলতাফের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন।

ইত্তেফাক/আরএইচ