হুতিদের দখলে ইয়েমেনের মোখা বন্দর, বাব আল-মান্দেবও কব্জার পথে

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৮

ইয়েমেনের বন্দরনগরী মোখা নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌবাণিজ্যপথ বাব আল-মান্দেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আরও কাছাকাছি পৌঁছে গেছে গোষ্ঠীটি। একই সঙ্গে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হুতিরা হামলা চালাচ্ছে বলে ইয়েমেনের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ইয়েমেনের চার সামরিক কর্মকর্তা মোখা হুতিদের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার তথ্য জানান। তাদের ভাষ্য, মোখা দখলের মাধ্যমে লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রবেশদ্বার বাব আল-মান্দেব প্রণালির ওপর প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে হুতিরা কৌশলগত সুবিধা পেয়েছে।

বাব আল-মান্দেব লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরকে সংযুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ দিয়ে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন হয়ে থাকে। ফলে অঞ্চলটিতে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সৌদি আরব ঘিরে উত্তেজনা
ইসরায়েলে হামলার মাধ্যমে ২৮ মার্চ হুতিরা চলমান আঞ্চলিক সংঘাতে আরও সরাসরি যুক্ত হয়। তবে জুলাইয়ে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধের ঘোষণা এবং সেপ্টেম্বরে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে হামলা বাড়ানোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরবের জন্য লোহিত সাগরের নৌপথ গুরুত্বপূর্ণ। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিকল্প নৌপথ হিসেবে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দেবের গুরুত্ব আরও বেড়েছে। এর আগে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হতো।

চীনের মধ্যস্থতায় সৌদি আরব ও ইরানের সম্পর্কের বরফ কিছুটা গললেও দুই দেশ দীর্ঘদিনের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী। পারস্পরিক অবিশ্বাসের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নতুন করে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে।

হুতিদের নিবৃত্ত করতে ইরানকে বার্তা
বৃহস্পতিবার অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। হুতিদের হামলার পর সৌদি বেসামরিক প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর খামিস মুশাইতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চতুর্থবারের মতো জরুরি সতর্কতা জারি করে।

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও ইরানের সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, ইয়েমেনের হুতি মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইরানকে সতর্ক করেছে রিয়াদ। সংকট আরও বড় আকার নেওয়া ঠেকাতে পাকিস্তানের মাধ্যমে তেহরানের কাছে এ বার্তা পৌঁছানো হয়েছে।

ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, পাকিস্তান মঙ্গলবার তেহরানে সৌদি আরবের বার্তা পৌঁছে দিয়েছে। তবে তার দাবি, হুতি বিদ্রোহীদের ওপর ইরানের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই।

ইয়েমেনে নতুন করে সংঘাত
আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থিত ইয়েমেনি সরকারের পক্ষে থাকা সৌদি আরব এবং হুতিদের মধ্যে সংঘাত এমন এক সময়ে তীব্র হচ্ছে, যখন উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যেও বড় ধরনের সামরিক উত্তেজনা চলছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুদ্ধ শুরুর পর বাণিজ্যিক জাহাজকে ঘিরে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলাও বেড়েছে।

ইরান-সমর্থিত প্রতিরোধ জোটের অংশ হিসেবে বিবেচিত হুতিরা গাজা যুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এ সময় তারা ইসরায়েল লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পাশাপাশি লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজেও হামলা চালিয়েছে।

মোখা বন্দরের নিয়ন্ত্রণ এবং বাব আল-মান্দেব ঘিরে হুতিদের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ওপর এর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস