প্যারিসের সেই ভয়ংকর রাত, আদালতে সাক্ষ্য দিলেন দোন্নারুম্মা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৫৮

প্যারিসে থাকার সময় নিজ বাড়িতেই ভয়াবহ ডাকাতির শিকার হয়েছিলেন ইতালির তারকা গোলকিপার জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। মুখে নাকল ডাস্টার দিয়ে আঘাত, ছুরি দেখিয়ে হুমকি এবং বেঁধে রাখার মতো ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাকে। শুধু দোন্নারুম্মা নন, ওই সময় তার সঙ্গে থাকা অন্তঃসত্ত্বা প্রেমিকা, বর্তমানে স্ত্রী আলেসিয়া এলেফান্তেকেও মারধর করেছিল ডাকাতরা।

ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালে, যখন দোন্নারুম্মা ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের হয়ে খেলতেন। প্যারিসের এভিনিউ মন্তেনিয়েতে অবস্থিত তার ফ্ল্যাটে গভীর রাতে চার ডাকাত ঢুকে পড়ে। তাদের আকস্মিক প্রবেশে ঘুম ভেঙে যায় দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের।

তিন বছর আগের ওই ডাকাতির ভয়াবহ বিবরণ সম্প্রতি প্যারিসের একটি ফৌজদারি আদালতে দুই দিনব্যাপী শুনানিতে উঠে এসেছে। আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে দোন্নারুম্মা জানিয়েছেন, ডাকাতরা তাকে নাকল ডাস্টার দিয়ে মুখে আঘাত করে এবং ছুরি দেখিয়ে ভয় দেখায়।

ডাকাতির সময় বেশ কয়েকটি দামি ঘড়ি, গয়না, হ্যান্ডব্যাগ ও নগদ অর্থ নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। এ ছাড়া একটি মার্সিডিজ ও একটি ল্যাম্বরগিনির চাবিও চুরি করা হয়।

ঘটনার সময় ২৯ বছর বয়সী এলেফান্তে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন। তার ওপরও চালানো হয় শারীরিক নির্যাতন। ডাকাতরা একটি সেফের পাসকোড জানতে তার ওপর চাপ সৃষ্টি করেছিল। কিন্তু এলেফান্তে জানান, তিনি সেই কোড জানতেন না এবং সেফের ভেতরেও কোনো মূল্যবান জিনিস ছিল না।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সত্য বলছেন না—এমন সন্দেহ করে ডাকাতরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে তার চুল ধরে টান দেওয়া হয় এবং তাদের একজন তার উরুতে আঘাত করে। এলেফান্তে জানান, তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার কথা বলার পরও ডাকাতরা নির্যাতন বন্ধ করেনি।

পরে দোন্নারুম্মা সেফের পাসকোড ডাকাতদের দিয়ে দেন। তবে এলেফান্তের কথার মতোই সেফটি ফাঁকা ছিল। ফলে সেখানে কাঙ্ক্ষিত কোনো মূল্যবান জিনিস পায়নি ডাকাতরা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, চার ডাকাত মই ব্যবহার করে ভবনের ছাদে পৌঁছেছিল। এরপর সেখান থেকে ব্যালকনিতে নেমে জানালা ভেঙে ফ্ল্যাটের ভেতরে প্রবেশ করে তারা।

তদন্তকারীদের ধারণা, কারাগারে থাকা অবস্থাতেই ইলিয়াস খেরবুশ ও খিয়ান মামুনি এই ডাকাতির পরিকল্পনা করেছিল। তবে মামলার এই দুই আসামিই তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ঘটনার সময় ডাকাত দলের আরও দুজনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ছিল। পরে শিশু আদালতে তাদের দোষী সাব্যস্ত করা হয় এবং একজনকে তিন বছর ও অন্যজনকে চার বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করা আরেক সন্দেহভাজন ২০২৪ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় আত্মহত্যা করেন। তিনি ডাকাতিতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করলেও দাবি করেছিলেন, সহযোগীদের চাপের মুখেই তিনি এ কাজে জড়িয়ে পড়েছিলেন।

অন্য আসামি মোক্তার দিওপও ডাকাতির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে দোন্নারুম্মা ও এলেফান্তের ওপর কোনো ধরনের সহিংসতা চালানোর অভিযোগ আনা হয়নি। মামলাটির বিচারকাজ এখনও চলছে।

ইত্তেফাক/এমএসআর