এজবাস্টন টেস্টের প্রথম ইনিংসেও মুখ থুবড়ে পড়েছিল পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইন। তাদের করা ১৩৩ রানের জবাবে ৪৫৩ রানে থামে ইংল্যান্ড। ৩২০ রানে পিছিয়ে থেকে ইনিংস হারের শঙ্কায় ছিল সফরকারীরা। তাদের দ্বিতীয় ইনিংসের শুরুটাও ভালো হয়নি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়িয়ে অলআউট হওয়ার আগে ৪৪৯ রান করেছে পাকিস্তান। এবার ইংলিশদের ১২৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছে বাবর আজমের দল।
লক্ষ্যটা যদিও ছোট, তবে এই সিরিজে পাকিস্তানের নাজুক ব্যাটিং এমন কিছুর সম্ভাবনাও দেখায়নি। সফরকারীদের আরেকবার ব্যাটিং দুর্ভোগ দেখার অপেক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রথমে চমকে দেয় আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের ব্যাট। তাদের পথ ধরে অধিনায়ক বাবরও হাফসেঞ্চুরি করেছেন। তবে মূল বিস্ময়টা তুলে রেখেছিলেন ম্যাচটিতে অভিষেক হওয়া পেসার রাজাউল্লাহ। তার রেকর্ড ৯ ছক্কার ইনিংসেই মূলত ইংলিশদের লিড পেরোল পাকিস্তান।
টেস্ট অভিষেকের মহোৎসব কাকে বলে, তা নিজের ব্যাট দিয়ে বুঝিয়ে দিলেন ২১ বছর বয়সী এই তরুণ পেস বোলিং অলরাউন্ডার। পাকিস্তানের সম্ভাব্য হোয়াইটওয়াশের সামনে দাঁড়িয়ে বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন তিনি। ৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে নয়-নয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে বসলেন রাজাউল্লাহ। টেস্ট অভিষেকের কোনো ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কা মারার নজির এটি।
বাবর-মাসুদরা প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৩৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার পর তাদের বিপক্ষে ইংলিশরা ৩২০ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে রানের খাতা খোলার আগেই ২ উইকেট হারায় পাকিস্তান। ফলে তাদের ইনিংস হারের শঙ্কাটা ঝেঁকে বসে। তবে আজান আওয়াইস ও শান মাসুদের ১২৫ রানের জুটি সেই শঙ্কা কমতে থাকে। আজান ৮৪ বলে ১০ চারে ৫৯ রানে ফিরলে এই জুটি ভাঙে। এরপর ৮৯ রানের জুটি গড়েন বাবর-মাসুদ।
দারুণ ব্যাটিংয়ের পর সাবেক অধিনায়ক মাসুদ অবশ্য ১৪৮ বলে ১২ চারের সাহায্যে ৯৫ রানে আক্ষেপ নিয়ে ফিরেছেন। ৬৪ রানের জুটি গড়েন বাবর ও সৌদ শাকিল। বাবর ১০৩ বলে ১১ চার ও ১ ছক্কায় করেন ৭৬ রান। এছাড়া শাকিল ২৯ ও গাজী ঘোরি ১৬ রানে আউট হওয়ার পর পাকিস্তান খুব দ্রুতই হারতে যাচ্ছে মনে হচ্ছিল। অষ্টম ব্যাটার মোহাম্মদ ইমরান আউট হওয়ার সময়ও ইংল্যান্ড ২ রানে এগিয়ে। তবে নবম উইকেটে মোহাম্মদ আব্বাসকে নিয়ে ১২১ রানের অবিস্মরণীয় জুটি গড়েন রাজাউল্লাহ।
৬৭ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪২ রান করা আব্বাসের বিদায়ে সেই জুটি ভাঙে। ১০ রানের ব্যবধানে রাজাউল্লাহ ফেরার পরই পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংস থামে ৪৪৯ রানে। এর আগে রাজা খেলেছেন ৬৩ বলে ৪ চার ও ৯ ছক্কায় ৮১ রানের রেকর্ডগড়া ইনিংস। ইংলিশদের পক্ষে দ্বিতীয় ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন গাস অ্যাটকিনসন। দুটি করে শিকার ধরেন তিন বোলার।
৮১ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংসে নয়-নয়টি ছক্কা হাঁকিয়ে এক অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়ে বসলেন রাজাউল্লাহ। টেস্ট অভিষেকের কোনো ইনিংসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ৯টি ছক্কা মারার নজির এটি। এর আগে, ২০০৮ সালে এই কীর্তি গড়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের টিম সাউদি। শুধু তা-ই নয়, ইংল্যান্ডের মাটিতে এক ইনিংসে বেন স্টোকসের সর্বোচ্চ ৯ ছক্কার রেকর্ডটিতেও ভাগ বসিয়েছেন এই তরুণ।
তবে নয় কিংবা এর নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে সর্বোচ্চ ১১৩ রানের ইনিংসটা বাংলাদেশের আবুল হাসান রাজুর। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রেগি ডাফ ১০৪ ও অ্যাশটন আগার ৯৮ রান করেছেন অভিষেকে এত নিচে ব্যাটিংয়ে নেমে। এদিকে, ২০১৬ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে টেস্টে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ (৪৪৯) পেল পাকিস্তান।
এর আগে, দিনের প্রথম ভাগে শান মাসউদের ৯৫ ও চোট কাটিয়ে ফেরা বাবর আজমের ৭৬ রানের ওপর ভর করে পাকিস্তান ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। আজান ওওয়াইসও করেন ৫৯ রান। কিন্তু হঠাৎ মিডল অর্ডারের ধসে পাকিস্তান দ্রুত উইকেট হারালে দলের হাল ধরেন সেই রাজাউল্লাহ-আব্বাস জুটি। পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত তাদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৪৪৯ রান তুলতে সক্ষম হয়।
পুরো সফরে যখন ব্যর্থতার অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই স্পষ্ট নয়, তখন তরুণ রাজাউল্লাহর এই রেকর্ডগড়া লড়াই-ই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একমাত্র ও বড় প্রাপ্তি হয়ে রইলো।

