‘মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি গরুর মাংস খায়’

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:০২

প্রকাশ্যে গরুর মাংস খাওয়ার কথা বলে বিতর্কে জড়িয়েছেন বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটাক্ষের শিকার হতে হচ্ছে তাকে। এমতাবস্থায় প্রবীণ অভিনেতার সমর্থনে কথা বলে বিতর্কে জড়ালেন ‘মা’ ধারাবাহিক খ্যাত ‘ঝিলিক’ ওরফে তিথি বসু।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার এক প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও খাবারের প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ। বিশেষ করে গরুর মাংস ও ইলিশের প্রতি নিজের ভালো লাগার কথা জানান তিনি। তার সেই বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় সমালোচনা।

বিষয়টি নজরে আসার পর বিশ্বজিতের পক্ষে কথা বলেন তিথি। 

‘ঝিলিকে’র মন্তব্য, বিশ্বজিৎ কাকু একজন সিনিয়র অভিনেতা এবং মানুষ হিসেবেও অসাধারণ।

নিজের সততা থেকেই সত্যি কথাটা বলেছেন উনি। তাছাড়া বাংলাদেশে গিয়ে কে, কী খাবেন বা খাবেন না? সেটা তো যার যার ব্যক্তিগত বিষয়। এখানেই অবশ্য থামেননি তিনি। তিথির দাবি, সিনেপাড়ার অনেকেই আড়ালে-আবডালে কিংবা প্রকাশ্যে গোমাংস খেয়ে থাকেন।

প্রসঙ্গটি টেনেই অভিনেত্রীর সংযোজন, আমাদের ধারাবাহিকেই এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী-অভিনেতা ছিলেন, যারা সেটে বসে গরু নিয়ে গল্প করতেন। এমনকি কলকাতার অনেক খ্যাতনামা জায়গায় যখন গরুর মাংস বিক্রি হত, সেখানে বেশিরভাগ হিন্দুরাই যেতেন। ২০১০ সাল নাগাদ বহু জনপ্রিয় সঙ্গীতশিল্পী ও চ্যানেল কর্মকর্তাদেরও দেখেছি বিফ খাওয়ার জন্য ছুটে যেতে।

তিথির ভাষ্য, ‌‘অনেক মানুষ গরুর মাংস খায়। এটাই বাস্তব। এমনকি মুসলিমদের থেকে হিন্দুরাই বেশি খায়। যারা প্রকাশ্যে বলেন না, তাদের মধ্যেও অনেকেই হয়তো আড়ালে খেয়ে থাকেন।’

Tithi Basu: ১৫ বছর বয়সে বাবা ছেড়ে চলে যান; নুন-ভাত খেয়ে স্কুলে যেত 'মা'  ধারাবাহিকের ঝিলিক, অর্থাৎ তিথি | This is what actress tithi basu said about  her relationship with father in

তিনি আরও বলেন, কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস, সেটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। নিজের পছন্দ অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়।

এমন কথা বলেই আলোচনায় তিথি। কারও মন্তব্য, ‘তুমিও গরুর মাংস খাও! তোমার প্রতি ভালোবাসা কমে গেল।’ কারও মন্তব্য, ‘অপরিণত মস্তিষ্কে এই বিষয়ে তোমার কথা না বলাই ভালো।’ কারও কটাক্ষ, ‘আমরা গোমাতার পূজা করি হিন্দুর নামে কলঙ্ক তুমি।’ কেউ বা প্রশ্ন তুললেন, ‘গরুর মাংস খাওয়া ব্যক্তিগত বিষয় হতেই পারে, কিন্তু প্রকাশ্যে প্রচার করার দরকার কি?’ 

সব মিলিয়ে বিশ্বজিতের বিতর্কে কথা বলে এবার নিজেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ‘ঝিলিক’খ্যাত তিথি বসু।

ইত্তেফাক/এনটিএম