লোহিত সাগর ও বাব-এল-মান্দেব প্রণালিতে তীব্র উত্তেজনার জেরে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে এবার একাই বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এবিসি নিউজ-এর বরাতে জানা গেছে, প্রয়োজনে ওয়াশিংটনের সরাসরি সামরিক সহায়তা ছাড়াই রিয়াদ এই অভিযান শুরু করতে পারে।
তবে সৌদি আরব এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্রও আপাতত হুথিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানোর পরিকল্পনা করছে না।
দুই মার্কিন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এবিসি নিউজ জানিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রকে জানিয়েছে, হুথিদের বিরুদ্ধে বড় সামরিক অভিযান চালাতে তারা প্রস্তুত। ওয়াশিংটন বর্তমানে রিয়াদকে গোয়েন্দা তথ্য ও লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণে সহায়তা দিচ্ছে।
মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আপাতত হুথিদের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালানোর পরিকল্পনা নেই ওয়াশিংটনের। তবে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর হুমকি আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার বৃহস্পতিবার সৌদি আরবে গিয়ে দেশটির কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে জানা গেছে।
এদিকে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে দুবার ফোনে কথা বলেছেন। এক মার্কিন কর্মকর্তা জানান, সৌদি যুবরাজ যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপ চাইছেন। তবে তিনি এটিকে তাৎক্ষণিকভাবে অপরিহার্য বলে উল্লেখ করেননি।
ট্রাম্প প্রশাসনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, লোহিত সাগরে নৌ চলাচলের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ। তবে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক দেশগুলোকে নেতৃত্ব দিতে চায় ওয়াশিংটন।
তবে লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুথিদের হামলা আরও বাড়লে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারে বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি-সংশ্লিষ্ট জাহাজে হুথিদের হামলা বাড়ায় পুরো অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে বাব-এল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক নৌ চলাচল বন্ধ বা ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে উঠতে পারে।

