বিদ্যুৎ সংকটে গার্মেন্টসের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমেছে: শফিকুর রহমান

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৬:৫১

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে দেশের শিল্প খাতে মারাত্মক আঘাত এসেছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি খাত তৈরি পোশাকশিল্পে উৎপাদন কমে ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, শিল্পের মূল খোরাক হচ্ছে বিদ্যুৎ। গ্যাস, তেল ও আল্লাহর দেওয়া সৌরশক্তি এই তিন উৎস থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু বাংলাদেশ বর্তমানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে একটি বড় ধরনের সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। এতে শিল্প খাতে মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বগুড়া সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, দেশের প্রধান রপ্তানি খাত গার্মেন্টস। সম্প্রতি তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে জানিয়েছে, চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ায় তাদের উৎপাদন ৫০ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।

জামায়াতের আমির বলেন, উৎপাদন কমে গেলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ করতে পারবে না। একপর্যায়ে তারা ঋণখেলাপি হয়ে পড়বে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের ধরে রাখা কঠিন হবে এবং ছাঁটাই করতে বাধ্য হতে হবে। সময়মতো ক্রেতাদের অর্ডার সরবরাহ করতে না পারলে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশে চলে যেতে পারেন কিংবা দেওয়া অর্ডার বাতিল করতে পারেন। একবার ক্রেতারা চলে গেলে তারা আবার কবে ফিরে আসবেন, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তিনি আরও বলেন, শুধু বাংলাদেশেই তৈরি পোশাক উৎপাদন হয় না। এ খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে আরও অনেক দেশ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ক্রেতারা বিকল্প দেশগুলোর দিকে চলে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের বৃহত্তম রপ্তানি খাতের যদি এমন পরিস্থিতি হয়, তাহলে অন্যান্য শিল্প খাতের অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়। জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যেও অনেক গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তা রয়েছেন। গত ৯ সেপ্টেম্বর সংসদে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবদুল্লাহও এই খাতের ব্যবসায়ীদের সংকট, আশঙ্কা ও ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

এর আগে শনিবার সকালে ডা. শফিকুর রহমান বগুড়ার ধুনট উপজেলার মানিকপোটল (মরিচতলা) গ্রামের ইসলামী শিক্ষা আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত আব্দুল মালেকের কবর জিয়ারত করেন। এ সময় তিনি কবরের পাশে দাঁড়িয়ে ফাতিহা পাঠ করেন এবং আব্দুল মালেকের শাহাদাত কবুলের জন্য মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করেন।

 
ইত্তেফাক/এমএএম