কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর ফের ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থিত আদানি পাওয়ারের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের একটি কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে আগে থেকেই সংকটে থাকা বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা আরও চাপের মুখে পড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে লোডশেডিং।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন তৈরি হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির গোড্ডা বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদন চলার পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে উৎপাদন বাড়ানোর দিকে যায়।
তবে উৎপাদন বাড়ার পরই নতুন করে কারিগরি সমস্যায় পড়েছে কেন্দ্রটি। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহও কমতে শুরু করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়, ফলে লোডশেডিংয়ের পরিমাণও বেড়ে যাচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার সন্ধ্যা পিকে আদানির কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়েছিল। তবে এর দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে। পরদিন, অর্থাৎ ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা পিকে আদানির কাছ থেকে মাত্র ৬৯১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যায়। আজও সরবরাহ ৭০০ মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এমনিতেই কম। এই পরিস্থিতিতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়েছে। কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে যাওয়ার প্রভাব হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে।
কেন্দ্রটির কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ আবার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কারিগরি সমস্যায় বন্ধ থাকা ইউনিটটি ঠিক কবে নাগাদ আবার উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভারতের ঝাড়খণ্ড রাজ্যে নির্মিত আদানি পাওয়ারের কয়লাভিত্তিক এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। এর একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কার্যত অর্ধেকে নেমে এসেছে।
২০১৭ সালে আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তির আওতায় ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে।
এদিকে, জ্বালানি সংকটের মধ্যেও উৎপাদন ধরে রেখে দেশের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে এমনিতেই হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় চাপ আরও বেড়েছে।

