কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও অটোমেশনের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং বাংলাদেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুত করতে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘এআই, স্কিলস অ্যান্ড গ্লোবাল বিজনেস কনক্লেভ ২০২৬’।
রাজধানীর দ্য ওয়েস্টিন ঢাকায় ইন্টারন্যাশনাল প্রফেশনাল ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি) আয়োজিত এ সম্মেলনে এআই, অটোমেশন, ভবিষ্যৎ কর্মবাজার, দক্ষতা উন্নয়ন, করপোরেট সক্ষমতা এবং মানবসম্পদে বিনিয়োগের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা করেন দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞরা।
সম্মেলনে বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়াতে আইপিডি, AAA Finance & Investment Ltd., যুক্তরাজ্যের নিয়ন্ত্রিত অ্যাওয়ার্ডিং বডি Edupro UK এবং Association of International Accountants (AIA)-এর মধ্যে একটি চতুর্পক্ষীয় সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে এআই ও অটোমেশনের দ্রুত প্রসারের ফলে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটছে। এই বাস্তবতায় সরকারি ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানের জন্য চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
সম্মেলনের প্রথম নির্বাহী প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন জাতিসংঘ ডিআরআর ফেলো ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব মো. মানসুরুল হক, টেলিকম ভিএএস অগ্রদূত ও আইবিএম-সার্টিফায়েড কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ডেভেলপার মুজতবা সাত্তার (অনন্ত), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিন্যান্স বিভাগের অধ্যাপক ও চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এইচ. এম. মোশারফ হোসেন এবং অর্থনীতিবিদ ও আইসিএবির সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. জামালউদ্দিন আহমেদ।
আন্তর্জাতিক আলোচক হিসেবে সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন AIA-এর প্রধান নির্বাহী ফিলিপ টার্নবুল এবং যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব লিডসের অধ্যাপক ও আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফয়সাল আহাম্মাদ। প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, সম্মেলনে এআই, হিসাববিজ্ঞান, নৈতিক শাসন এবং স্বয়ংক্রিয় অর্থনীতিতে মানবসম্পদের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের ফলে প্রচলিত অনেক কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। একই সঙ্গে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ। এ পরিস্থিতিতে কর্মীদের নিয়মিত দক্ষতা উন্নয়ন, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তারা।
আইপিডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ ফেরদৌস মাজিদ বলেন, দক্ষতা উন্নয়নকে শুধু ব্যয় হিসেবে দেখলে হবে না; এটিকে প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ আয়ের সরাসরি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। প্রযুক্তির পাশাপাশি মানুষের দক্ষতা উন্নয়নে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোই ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দেবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
চুক্তির আওতায় করপোরেট প্রতিষ্ঠান, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি সংস্থার জন্য বিশেষায়িত দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এসব কর্মসূচির মধ্যে এআই ও আর্থিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, ফিনটেক, প্রেডিক্টিভ এন্টারপ্রাইজ অ্যানালিটিক্স, ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই উন্নয়ন কৌশল অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
এ ছাড়া ব্যাংকিং, উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও টেক্সটাইলসহ বিভিন্ন খাতের নির্বাহীদের জন্য এক্সিকিউটিভ মাস্টারক্লাস আয়োজন এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণে AAA Finance-এর মার্চেন্ট ব্যাংকিং নেটওয়ার্ক কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রশিক্ষণে অর্থপাচার প্রতিরোধ বা AML কমপ্লায়েন্স এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) সংশ্লিষ্ট মানদণ্ডও অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
উদ্যোগটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তিকে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য প্রস্তুত করা। এ ক্ষেত্রে Edupro UK-এর RQF Level 3–7 পর্যায়ের যোগ্যতা এবং AIA-এর পেশাগত সনদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য দক্ষতা ও যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ তৈরির কথা জানানো হয়েছে।
আয়োজকদের মতে, আন্তর্জাতিকভাবে যাচাইযোগ্য পেশাগত যোগ্যতা ও ব্যবহারিক দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশের পেশাজীবীরা বৈশ্বিক নিয়োগের মানদণ্ডের সঙ্গে নিজেদের আরও ভালোভাবে সামঞ্জস্য করতে পারবেন। এর ফলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ বাংলাদেশি জনশক্তির অংশগ্রহণের সুযোগ আরও বাড়তে পারে।
সম্মেলনের মাধ্যমে এআই ও অটোমেশনের পরিবর্তিত বাস্তবতায় প্রযুক্তি এবং মানবসম্পদের দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়ে বাংলাদেশের করপোরেট খাত ও কর্মীদের ভবিষ্যৎ কর্মবাজারের জন্য প্রস্তুত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

