আদানির বন্ধ থাকা ইউনিট চালু, এবার বন্ধ রামপালের এক ইউনিট

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৫৫

কয়লাস্বল্পতার কারণে এক মাস ধরে সীমিত উৎপাদনে থাকা ভারতের ঝাড়খন্ডে নির্মিত আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের বন্ধ ইউনিট চালু হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ইউনিটটি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে। তবে একই দিন কারিগরি ত্রুটির কারণে বাগেরহাটের রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে গেছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। 

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্র জানায়, রোববার দুপুর ১২টার দিকে আদানির দ্বিতীয় ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারিগরি ত্রুটির কারণে রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়।

ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে নির্মিত রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লাভিত্তিক। এর আগে কয়লাস্বল্পতার কারণে কেন্দ্রটির উৎপাদন কমে গিয়েছিল। বর্তমানে কেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লা মজুত রয়েছে। ফলে সম্প্রতি সেখানে ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছিল। একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন এখন ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে গেছে।

রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, কী কারণে ইউনিটটি বন্ধ হয়েছে, তা খুঁজে বের করতে কাজ চলছে। দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কেন্দ্রে কয়লার পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে।

এদিকে ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমে যায়। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন কিছুটা বাড়িয়ে দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।

গত বুধবার রাতে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। তবে ওই রাত ১২টার দিকে একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে গেলে উৎপাদন কমে ৭৫০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে। এতে দেশে লোডশেডিং বেড়ে যায়।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দায়িত্বশীল দুজন কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে বলেন, একটি ইউনিটের বয়লারে সমস্যা দেখা দিয়েছিল। রোববার ভোরে মেরামতের কাজ শেষ করে ইউনিটটি পুনরায় উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত করা হয়। পরে দুপুর ১২টার দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করে ইউনিটটি।

পিডিবি ও পিজিসিবি সূত্র জানায়, রোববার বেলা ২টার দিকে আদানির দুটি ইউনিট মিলিয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ১ হাজার মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায়। এর আগে সকালে সর্বোচ্চ ৭৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি। বিকেলের দিকে সরবরাহ আরও বাড়তে পারে।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। এখানে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট রয়েছে। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। চাহিদা অনুযায়ী কেন্দ্রটি থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহের রেকর্ড রয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজে