জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র ও সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে আনীত দুর্নীতির অভিযোগ প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী (সচিব পদমর্যাদা) রাশেদ খাঁন। তার দাবি, নানা দুর্নীতির অভিযোগ ও রাজনৈতিক চাপ থেকে দায়মুক্তি পেতে এবং নিজেকে সুরক্ষার স্বার্থেই আসিফ মাহমুদ জামায়াত জোটে যোগ দিয়েছেন।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এসব বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।
ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, আসিফ মাহমুদ যখন জামায়াতবিরোধী অবস্থান নিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদ যেসময় জামায়াত বিরোধী ছিলেন, সেসময় তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ সত্য ছিলো! এবং সেসময় দুর্নীতির অভিযোগে ড. মুহাম্মাদ ইউনূসের অনুরোধ সত্ত্বেও জামায়াতের আমির তাকে ঢাকা-১০ আসনের নমিনেশন পর্যন্ত দেননি। এখন যেহেতু তিনি জামায়াত জোটের রাজনীতির চর্চা করেন, সুতরাং তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ ভিত্তিহীন!
একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ, তা বর্তমানে তিনি জামায়াতের সঙ্গে আছেন কি না তার ওপর নির্ভর করছে বলে মন্তব্য করেন রাশেদ খাঁন। তিনি বলেন, একজন ব্যক্তি অপরাধী নাকি নিরপরাধ ,সেটি নির্ভর করে সে জামায়াতের লোক কি না! জামায়াত করলে বা জামায়াতকে সমর্থন করলে, একজন ব্যক্তির সমস্ত অপরাধ ধুয়েমুছে যায় এবং তিনি পুরোদস্তুর ফেরেস্তা হয়ে যান! আর তাই আসিফ মাহমুদও তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি পেতে জামায়াত জোটে যোগদান করেছেন!
তিনি আরও বলেন, এখন আসিফ মাহমুদ পুরোপুরি নিষ্পাপ ,একদম কলঙ্কমুক্ত! আবার যদি কখনো এনসিপি জামায়াত জোট ছাড়ে, তখন আর দুদক লাগবে না, জামায়াত শিবিরই তার দুর্নীতির বিচারের রায় দিয়ে দিবে! দেখা যাক, আসিফ মাহমুদ আর কতোদিন জমায়াত জোটের রাজনীতি করে নিজেকে সেইফ করতে পারেন! তবে এতোটুকু জানতে পারলাম, বাঁচার জন্য তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন থেকে সেইফ এক্সিট নিয়েছেন! জামায়াত তাকে ঢাকা দক্ষিণ ছাড়বে না, সাফ জানিয়ে দেওয়ার পর তিনি উত্তরে গেছেন! পরবর্তীতে জামায়াত নেতা সেলিম উদ্দিনকে সমর্থন দিয়ে তিনি বসে পড়বেন! গণঅভ্যুত্থানের একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখপাত্রকে জামায়াতের সমর্থনে দুর্নীতি থেকে বাঁচতে এতো বড় ত্যাগ স্বীকার করতে হচ্ছে... খুবই দুঃখজনক , খুবই দুঃখজনক!

