অনিয়ম-দুর্নীতির নির্বাচনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থেকেছে বলে উল্লেখ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, ‘ক্ষমতায় এসে তারা বাংলাদেশের কোষাগার লুণ্ঠন করেছে। যা কিছু বিদেশি সাহায্য এসেছে, সবকিছু তারা চুরি করে বিদেশে পাচার করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক, সেই ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে পর্যন্ত টাকা চুরি করে তারা ফিলিপাইন নিয়ে গেছে।’
রোববার (১৩৪ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলায় এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ। স্পিকার বলেন, ফিলিপাইনে যারা এ অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ছিল, তারা এখন সবাই কারাগারে আছে। কিন্তু এ ঘটনায় জড়িত বাংলাদেশের কারও কোনো বিচার হয়নি।
আক্ষেপ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের...অদ্ভুত দেশ! অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর। এগুলো নানা ধরনের ঘুষখোরি, লুটপাট এসব করে; যার ফলে মানুষের জীবনে নাভিশ্বাস উঠেছে।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, যেসব অন্যায়-অবিচারের বিচার সব দেশে জনগণের চাওয়া ছাড়াই হয়। বাংলাদেশে দিনরাত কান্নাকাটি, বছরের পর বছর কান্নাকাটি করেও এই অপরাধের কোনো বিচার তাদের হয় না।
বিএনপি এবং এর সহযোগী ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা–কর্মীদের সঙ্গে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্পিকার। ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্পিকার বলেন, আওয়ামী লীগের নেতা, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী—এগুলো দেশের সর্বনাশ করে দিয়েছে লুটপাট করে। আওয়ামী লীগ আমলের একটা প্রতিমন্ত্রী জাবেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী); তার ৩৬০টা বাড়ি পাওয়া গেছে লন্ডনেই। দুবাইয়ে বাড়ি আছে, আমেরিকায় বাড়ি আছে। সব বাংলাদেশের সম্পদ, আপনার-আমার টাকা, জনগণের টাকা লুণ্ঠন করে তারা এভাবে নিয়ে গেছে। তিনি বলেন, এখনো প্রশাসনে তাদের বেশ কিছু লোক বসে আছে, যে জন্য প্রকৃত চিত্র এখনো জনগণের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাচ্ছে না।
বাংলাদেশ ভালো থাকুক চায় না ভারত
ভারতের প্রতি ইঙ্গিত করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ ভালো থাকুক, সেটা প্রতিবেশী রাষ্ট্র চায় না। তিনি বলেন, তারা আমাদেরকে একটা করদ রাজ্য বানাবার চেষ্টা করছে।
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আগের (আওয়ামী লীগ) সরকার ১৬-১৭ বছরে বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ না দেখে, ওই প্রতিবেশীর স্বার্থই দেখেছে। অনেকগুলো অসম চুক্তি করেছে, যে চুক্তির ফলে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হয়েছে। যেমন চট্টগ্রাম বন্দরে ভারতীয় জাহাজ এলে অন্য সব জাহাজ, এমনকি বাংলাদেশের জাহাজগুলোকেও (বন্দর) খালি করে দিতে হবে। আগে তাদেরটা (প্রতিবেশী রাষ্ট্রের) আনলোড করবে, তারপরে এখানকার আমদানিকারকেরা জাহাজ খালাস করার সুযোগ পাবে।
স্পিকার বলেন, ‘তারা (ভারত) অনেক মালামাল আমাদের ভূমির ওপর দিয়ে নিয়ে যায়। এই মালামালের জন্য যে শুল্ক দেওয়া উচিত, তা তারা সঠিকভাবে দেয় না। এখানে তারা বিনা শুল্কে কিংবা নামমাত্র শুল্কে তাদের পণ্য পরিবহন করছে, যেটা বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে আমাদের ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। অথচ সারা বিশ্বব্যাপী শুল্ক দিয়ে মালামাল নিতে হয়।’
হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের সীমান্তে প্রতিদিন তো লোক হত্যা করছে তারা। পাকিস্তানের সঙ্গেও তাদের বর্ডার আছে। ওইখানে তো কাউকে কোনো দিন গুলি চালানো হয় না।’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম মোস্তফার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ওমর আসাদের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি জাকির হোসেন হাওলাদার, হাসান মাকসুদুর রহমান, ভোলা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, চাঁদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মহিউদ্দিন জুলফিকার প্রমুখ।

