ধীরে ধীরে লেবাননের দখল নিচ্ছে ইসরায়েল

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪১

দক্ষিণ লেবাননের ‘আলী আল-তাহের’ পাহাড়চূড়ার দিকে অগ্রসর হওয়া যেকোনো ব্যক্তিকে ‘নির্মূল’ করার হুমকি দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ। একই সঙ্গে তিনি নিশ্চিত করেছেন, এই এলাকার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। 

ইসরায়েল কাৎজ দাবি করেন, ইসরায়েলি বাহিনী ওই এলাকায় হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের হত্যা করেছে এবং তাদের সুড়ঙ্গ ধ্বংস করেছে। সেখানে হিজবুল্লাহ বা অন্য কোনো পক্ষ যাতে পুনরায় অবস্থান তৈরি করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই পাহাড়চূড়াটি ইসরায়েলের চিহ্নিত তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’ এবং ঘোষিত ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’-এর অংশ, যা লেবাননের ভেতরে প্রায় ৭০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। পুরো লেবানন জুড়ে হিজবুল্লাহকে সম্পূর্ণ নিরস্ত্র না করা পর্যন্ত ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার বা পুনর্মূল্যায়ন করা হবে না বলে তিনি সাফ জানিয়ে দেন।

এই বিষয়ে লেবানিজ কর্তৃপক্ষ বা হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ‘আলী আল-তাহের’ পাহাড়ে এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায় ইসরায়েলি বাহিনী। তারা জানায়, এর মাধ্যমে দুই কিলোমিটারের বেশি বিস্তৃত হিজবুল্লাহর একটি সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক এবং অন্যান্য অবকাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে। পরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই স্থানটিকে ইরানের বাইরে অবস্থিত ‘বৃহত্তম ইরানি ঘাঁটি’ হিসেবে বর্ণনা করেন।

লিটানি নদীর উত্তরে কফর তিবনিত ও নাবাতিয়ে আল-ফাওকার মাঝখানে অবস্থিত এই পাহাড়চূড়াটি থেকে দক্ষিণ লেবাননের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়, যা সামরিক দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। চলতি মাসের শুরুতে নেতানিয়াহু দাবি করেছিলেন, ইসরায়েলি বাহিনী এলাকাটি সম্পূর্ণ শত্রুমুক্ত করেছে।

লেবাননের সরকারি হিসাব অনুযায়ী, গত ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলায় প্রায় ৪ হাজার ৪০০ জন নিহত এবং ১২ হাজার ৫০০ জন আহত হয়েছেন।

ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকা দখল করে রেখেছে, যার মধ্যে কয়েক দশক ধরে দখলে থাকা ভূখণ্ডের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানে দখল করা নতুন স্থানগুলোও রয়েছে।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

ইত্তেফাক/টিএইচ