সাত ধাপে ইউপি নির্বাচন শুরু ১২ নভেম্বর, শেষ ২৭ মে

এরপর পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচন; একক প্রার্থী বাছাই বিএনপির বড় চ্যালেঞ্জ, মাঠ গোছাচ্ছে জামায়াত

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫৯

স্থানীয় সরকারের ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচন সাত ধাপে করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন, যার প্রথম ধাপ হবে আগামী ১২ নভেম্বর। দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, ৩য় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর। ৪র্থ ধাপ আগামী বছরের ১৭ জানুয়ারি, ৫ম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ৬ষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ৭ম ধাপ বা শেষ ধাপের নির্বাচন হবে আগামী ২৭ মে। গতকাল সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। এ এম এম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন ইসি সকালে কমিশন সভা করেন। পরে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন এ নির্বাচন কমিশনার। জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের পর পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন হবে। ধাপে ধাপে স্থানীয় সরকারের এসব নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় এক বছর সময় লাগবে।

স্বাধীন বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ৯ বার ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রথম ইউপি নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালে। পরবর্তী নির্বাচনগুলো হয় ১৯৭৭, ১৯৮৩, ১৯৮৮, ১৯৯২, ১৯৯৭, ২০০৩, ২০১১, ২০১৬ এবং ২০২১ সালে। সর্বশেষ ইউপি নির্বাচনের পর অনেক ইউনিয়ন পরিষদের মেয়াদ ইতিমধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে, তাছাড়া পট পরিবর্তনের পর অনেক ইউপি চেয়ারম্যান ও প্রতিনিধি পলাতক বা অনুপস্থিত থাকায় স্থানীয় সেবা ব্যাহত হচ্ছে, যা এই নতুন নির্বাচনের মাধ্যমে স্বাভাবিক হবে বলে সংশ্লিষ্ট আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

২০২১ থেকে ২০২২ সালে ধাপে ধাপে অনুষ্ঠিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বর্জন করেছিল বিএনপি। তবে ২০১৬ সালের নির্বাচনে দলটি অংশ নিয়েছিল। সেই হিসাবে প্রায় ১০ বছর ইউপি নির্বাচনের বাইরে থাকার পর এবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। কিন্তু ভোটের মাঠে নামার আগেই দলটির সামনে দেখা দিয়েছে বড় ধরনের সাংগঠনিক সংকট। প্রায় সব ইউনিয়ন পরিষদেই বিএনপির সমর্থনপ্রত্যাশী গড়ে প্রতিটিতে ৭ থেকে ১৭ জন। কেন্দ্রীয় নির্দেশনা আসার আগেই বিভিন্ন   এলাকায় তারা মাঠে নেমে পড়েছেন। দল সমর্থিত একক প্রার্থী চূড়ান্ত করাই বিএনপির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তৃণমূল বিএনপির ১০ জন নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদের প্রায় সব জায়গায় চেয়ারম্যান পদে বিএনপির একাধিক নেতা প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন। কেউ কেউ এলাকায় জনসংযোগও শুরু করেছেন। ফলে দল-সমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করা এবং অন্যদের তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধ করাই বিএনপির সামনে বড় সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। জানা গেছে, তপশিল যত এগিয়ে আসছে, বিএনপির সামনে তত স্পষ্ট হচ্ছে তিনদিকের চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, নিজ দলের একাধিক প্রার্থীকে এক জনের পেছনে ঐক্যবদ্ধ করা। দ্বিতীয়ত, জামায়াত ও এনসিপির প্রার্থীদের মোকাবিলা করা। তৃতীয়ত, কার্যক্রমনিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মোকাবিলার কৌশল ঠিক করা।

এদিকে এদিকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে আগে থেকে প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছে। অধিকাংশ জায়গায় প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে দলটি। অনেক প্রার্থীকে মাঠেও নামিয়েছে। মাঠ গোছানোর কাজে দলটি এখন বেশি সময় অতিবাহিত করছে।  

বিকালে নির্বাচন ভবনে ব্রিফিংয়ে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন নিয়ে প্রাক প্রস্তুতিমূলক সভা করেছি। আগামী ১২ নভেম্বর প্রথম ধাপে দেশের ৬৩ জেলার ৮০টি উপজেলার সব ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আনুষ্ঠানিকভাবে তপশিল ঘোষণা করবে ইসি। তিনি বলেন, আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষা, দুর্গাপূজা, রমজান ও ঈদের সময় বিবেচনায় নিয়ে সাত ধাপে ভোট আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক এই সিদ্ধান্ত আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃবিভাগীয় বৈঠকের পর চূড়ান্ত হবে।

প্রসঙ্গত, সংশোধিত আইন অনুযায়ী আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন বা দলীয় প্রতীক ব্যবহারের সুযোগ না থাকলেও রাজনৈতিক দলগুলো মাঠপর্যায়ে নিজেদের চেইন অব কমান্ড ঠিক রাখতে স্থানীয়ভাবে একক প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নির্দলীয় ইউপি ভোটে সব দলের সহায়তা চেয়ে মতবিনিময় করবে ইসি

ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক দলের সঙ্গেও আলোচনা করবে নির্বাচন কমিশন। অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে। সোমবার নির্বাচন ভবনে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে এ তথ্য দেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি—নিবন্ধিত সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করব এবং এই আলোচনাটা তিন ধাপে সম্পন্ন করব বলে আশা করছি। আগামী ২৩, ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর (মঙ্গল, বুধ এবং বৃহস্পতিবার) রেজিস্ট্রেশন সিকোয়েন্স অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে ইনভাইট করব।’

দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত ৬০টি দল রয়েছে। নির্বাচন কমিশনার সানাউল্লাহ বলেন, দলগুলোর প্রতেকটির দুজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার অন্যতম উদ্দেশ্য হচ্ছে মূলত সহযোগিতা চাওয়া। যাতে করে সংসদ নির্বাচন যেরকম সুশৃঙ্খলভাবে এবং কোনো ধরনের গন্ডগোল ছাড়া সম্পন্ন করতে পেরেছি, সেভাবে যেন স্থানীয় সরকার নির্বাচনটা শুরু করতে পারি এবং শেষ করতে পারি।

ইত্তেফাক/এনএন