ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত আমারই ছিল: আসিফ নজরুল

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩:২১

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি-মার্চে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বর্জনের ঘটনায় সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুলকে দায়ী করে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর নিজের সিদ্ধান্তের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, দেশের মর্যাদা ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তটি তৎকালীন ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে তারই ছিল। একই সঙ্গে তিনি ইতোমধ্যে বিষয়টি প্রকাশ্যে স্বীকার করা সত্ত্বেও নতুন করে এই তদন্ত ও তা ঘটা করে প্রকাশ করার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

এর আগে আজ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার কারণ উদ্‌ঘাটনে গঠিত তিন সদস্যের তদন্ত কমিটির ২২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়। বর্তমান সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের নির্দেশে গঠিত এই কমিটির প্রধান ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ। কমিটির অন্য দুই সদস্য ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বিসিবির প্রধান নির্বাচক হাবিবুল বাশার এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর।

তদন্ত প্রতিবেদনের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় উল্লেখ করা হয়, বিশ্বকাপের মতো আসর বর্জনের মতো সংবেদনশীল সিদ্ধান্ত কোনো একক ব্যক্তির নেওয়া সমীচীন নয়। লিখিত প্রতিবেদনে কোনো ব্যক্তির নাম সরাসরি উল্লেখ না থাকলেও সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফয়সাল দস্তগীর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে স্পষ্ট করেন যে, ‘একজন ব্যক্তি’ বলতে তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলকেই বোঝানো হয়েছে। মূল দায় কার—এমন প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান ড. এ কে এম ওয়ালী উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘এটা সরকারের সিদ্ধান্ত ছিল। এর বাইরে আর কী বলব!’

তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মাথায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিস্তারিত বক্তব্য তুলে ধরেন সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি লেখেন, ‘ভারতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলতে যাওয়ার সিদ্ধান্তটি তখনকার ক্রীড়ামন্ত্রী হিসেবে মূলত আমারই ছিল। আমি নিজেই এ কথা একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছি। তাই এত দিন পর ক্রীড়া মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিষয়টি ঘটা করে তদন্ত করে তা প্রকাশের কী এমন কারণ ঘটল বুঝলাম না।’

ভারতে দল না পাঠানোর প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন, উগ্র হিন্দুত্ববাদীদের চাপের মুখে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) নির্দেশে বাংলাদেশি ক্রিকেটার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে অসম্মানজনকভাবে বাদ দেওয়ার পর থেকেই সংকটের সূচনা হয়। এর পরপরই নিরাপত্তাহীনতার আশঙ্কা এবং দেশের প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ হিসেবে ভারতে দল না পাঠানোর অবস্থান নেওয়া হয়।

নিজের এই আশঙ্কার পেছনে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) আনুষ্ঠানিক মূল্যায়নকে উদ্ধৃত করে আসিফ নজরুল জানান, আইসিসির প্রাথমিক প্রতিবেদনেই ভারতে তিনটি বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বলা হয়েছিল—দলে মোস্তাফিজের উপস্থিতি, বাংলাদেশি সমর্থকদের অবাধ চলাচলের ঝুঁকি এবং বাংলাদেশে আসন্ন নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট; যা বিবিসি বাংলাতেও প্রকাশিত হয়েছিল। তিনি আরও জানান, টুর্নামেন্টটি অন্য কোনো নিরপেক্ষ দেশে আয়োজনের জন্য শেষ পর্যন্ত জোর কূটনৈতিক চেষ্টা চালানো হলেও আইসিসিতে ভারতীয় বোর্ডের প্রভাবের কারণে তা সম্ভব হয়নি। তাছাড়া বিষয়টি সুরাহা করার জন্য ভারতের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ করা হয়নি।

সিদ্ধান্তটি দেশের স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল দাবি করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখা, খেলোয়াড়-সাংবাদিক ও সমর্থকদের নিরাপত্তা এবং নির্বাচনের আগে দেশের পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই ছিল তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, ‘একটি ছোট দেশ বলে কেউ আমাদের ইচ্ছেমতো অপমান করবে, আর আমরা সবসময় তা মুখ বুঝে মেনে নেব এমন প্রত্যাশা করা ঠিক নয়। আমি সমমর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে বন্ধুত্বে বিশ্বাসী, মাথা নত করে সব মেনে নেয়াতে না।’

ইত্তেফাক/এনএন