ইতালির ভেনিস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব শেষে দেশে ফেরার পর অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের বাসায় গিয়ে তার ও পরিবারের সার্বিক খোঁজখবর নিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) তিনি অভিনেত্রীর বাসায় যান। গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালিতে অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হওয়ার পর রাষ্ট্রের এই সহানুভূতি ও পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন বাঁধন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় অভিনেত্রী জানান, কঠিন এই পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে এগিয়ে আসা তাকে ব্যক্তিগতভাবে যেমন আশ্বস্ত করেছে, তেমনি একজন নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের প্রতি তার আস্থাকে আরও সুদৃঢ় করেছে। তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় শক্তি তার জনগণ। আর সেই জনগণের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার রক্ষায় রাষ্ট্র যখন দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে, তখন নাগরিকের আস্থার জায়গাটি আরও শক্তিশালী হয়।’
সংকটকালে সহায়তা ও সংহতি প্রকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকার, সরকারপ্রধান, বাংলাদেশ দূতাবাস এবং ইতালি পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতি ধন্যবাদ জানান বাঁধন। তিনি বলেন, ‘মতের পার্থক্য থাকতেই পারে, কিন্তু একজন নাগরিকের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে কোনো আপস হতে পারে না। মানুষ যখন ন্যায় ও সত্যের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়, তখন অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর শক্তি আরও বহুগুণ বেড়ে যায়।’ এ ধরনের অভিজ্ঞতা ভয় ও বিভাজনের বিরুদ্ধে ঐক্যের গুরুত্ব আবারও মনে করিয়ে দেয় উল্লেখ করে একটি নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসব শেষ করে গত সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন বাঁধন। উল্লেখ্য, গত ৮ সেপ্টেম্বর ইতালির মেস্ত্রে শহরে একদল ব্যক্তি তাকে ‘জুলাই জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। ওই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ইতালির স্থানীয় পুলিশে আনুষ্ঠানিক মামলা করেন এই অভিনেত্রী। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদেও আলোচনা হয়, যেখানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির ওই হামলাকে ‘গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার ওপর আক্রমণ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন।

