ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুত ১ লাখের বেশি মানুষ: জাতিসংঘ

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪৭

ইয়েমেনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকার ও হুথি বাহিনীর মধ্যে সামরিক সংঘাত চরম আকার ধারণ করায় ১ লাখের বেশি মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত প্রতিবেদনে অল জাজিরা এই পরিস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, দেশটির পশ্চিম উপকূলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় বাস্তুচ্যুত এসব মানুষ দেশের ভেতরে আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি প্রাণ বাঁচাতে বাব এল-মানদেব প্রণালি পেরিয়ে জিবুতিতে পাড়ি জমাচ্ছেন।

পরিস্থিতি মোকাবেলায় এবং জরুরি চাহিদা পূরণে ইউএনএইচসিআর-এর আনুমানিক ১ কোটি ৪০ লাখ ডলারের নতুন তহবিল প্রয়োজন। সংস্থাটি জানায়, দ্রুত স্থানান্তরিত হওয়া পরিবারগুলোর বাসস্থান, খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও চিকিৎসাসেবার মারাত্মক সংকট দেখা দিয়েছে।

ইরান সমর্থিত হুথিরা বাব এল-মানদেব প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ পোক্ত করতে লোহিত সাগর উপকূল সম্পূর্ণ দখলে নেওয়ার পর থেকেই এই বাস্তুচ্যুতির ঘটনা শুরু হয়। মার্কিন-ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিকল্প সমুদ্রপথ হিসেবে এই কৌশলগত জলপথের গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

বাস্তুচ্যুতদের মধ্যে আয়েশা মুহাম্মদ জানান, মোখা বন্দরের কাছে নিজ গ্রামে তিনি পাঁচ সন্তানকে রেখে আসতে বাধ্য হয়েছেন এবং সেখানে তারা অবরুদ্ধ অবস্থায় না খেয়ে দিন কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে হোদাইদাহ থেকে পালিয়ে আসা হুসাইন হায়দারা জানান, গোলাগুলি ও স্নাইপার হামলার ভয়ে পরিবার নিয়ে শুধু পরনের পোশাক সম্বল করে তাদের পালাতে হয়েছে।

ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, গত চার দিনে ২ হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ সমুদ্রপথ পাড়ি দিয়ে জিবুতিতে পৌঁছেছেন, যাদের অধিকাংশই নারী, শিশু ও বয়স্ক। জিবুতিতে সংস্থাটির প্রতিনিধি স্যান্ড্রিন দেসামুরস জানান, দীর্ঘ সমুদ্রযাত্রা শেষে আসা এই মানুষগুলো চরম ক্লান্ত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় পৌঁছাচ্ছেন।

চলমান এই যুদ্ধের কারণে ইয়েমেনে অবস্থানরত প্রধানত সোমালিয়া ও ইথিওপিয়ার ৬৫ হাজারেরও বেশি নিবন্ধিত শরণার্থী চরম ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।

সূত্র: আল জাজিরা

ইত্তেফাক/টিএইচ