গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই: মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে তথ্যমন্ত্রী

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:৩৬

গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের বিন্দুমাত্র কোনো ইচ্ছা বর্তমান সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে মন্ত্রী এ কথা জানান। বৈঠকে সাইবার সুরক্ষা আইনসহ দেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষাবিষয়ক নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার পুরোপুরি সমুন্নত রেখেই সরকার অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছে। রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি উদাহরণস্বরূপ জানান যে, বর্তমান সরকারের সময়ে বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ নিয়মিত প্রচার করা হচ্ছে।

সরকার স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ রক্ষায় বদ্ধপরিকর হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপপ্রচারের বিস্তার রোধে যথাযথ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি স্পষ্ট করেন। এ বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে সুনির্দিষ্ট মতবিনিময়ের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

বৈঠকে উপস্থিত তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে অধিকতর কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানোর বিষয়টির উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সাধারণ নাগরিকরা যাতে পূর্ণ নিরাপত্তা ও স্বস্তি বোধ করেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) সঠিক ব্যবহার নিয়ে কাজ করার তাগিদ দেন তিনি।

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা হয়। দুই দেশের সম্পর্ক ক্রমশ আরও শক্তিশালী ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে বলে সন্তোষ প্রকাশ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। এছাড়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত আর্থিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত জানান যে, এই সহায়তার মাধ্যমে স্বাস্থ্যখাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ কার্যক্রমেও বিশেষ সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।

বিগত ১৭ বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, আগের পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলেও বর্তমান সরকার সম্পূর্ণ সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক ও দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ইত্তেফাক/এএম