চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয়ার্ধে (১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের রাতের আকাশ মহাকাশপ্রেমী ও সাধারণ দর্শকদের জন্য অনন্য এক মহাজাগতিক রূপ নিতে যাচ্ছে। এ সময়ে রাতের পরিষ্কার আকাশে চোখ রাখলেই সহজেই শনাক্ত করা যাবে বলয়যুক্ত গ্রহ শনি, উজ্জ্বল শুক্র ও সৌরজগতের বৃহত্তম গ্রহ বৃহস্পতি। একই সঙ্গে শরৎকালীন বিশেষ নক্ষত্রমণ্ডল, অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এবং মাসের শেষভাগে দিগন্তে সোনালি আভাযুক্ত বিশেষ পূর্ণিমার চাঁদ বা ‘হারভেস্ট মুন’-এর দেখা মিলবে।
আন্তর্জাতিক মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বিষয়ক প্ল্যাটফর্মগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসটি শনি গ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য বছরের অন্যতম সেরা সময়। আগামী ৪ অক্টোবরের দিকে গ্রহটি পৃথিবীর সাপেক্ষে সূর্যের ঠিক বিপরীত অবস্থানে (অপজিশন) পৌঁছাবে। ফলে সেপ্টেম্বরের শেষভাগে সূর্যাস্তের পর থেকেই শনি গ্রহটি পর্যবেক্ষণের জন্য অত্যন্ত অনুকূল অবস্থানে থাকবে এবং রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশের আরও উঁচুতে দৃশ্যমান হবে। খালি চোখে এটিকে উজ্জ্বল একটি আলোকবিন্দু মনে হলেও সাধারণ বাইনোকুলার কিংবা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করে শনির আকর্ষণীয় বলয় এবং এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ ‘টাইটান’ প্রত্যক্ষ করা সম্ভব হবে।
শনির পাশাপাশি সূর্যাস্তের পরপরই পশ্চিম আকাশে নজর কাড়বে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহ, যা ‘সন্ধ্যাতারা’ হিসেবে সহজেই চিহ্নিত করা যাবে। অন্যদিকে গভীর রাত থেকে ভোর পর্যন্ত পূর্ব আকাশে দৃশ্যমান থাকবে বৃহস্পতি। সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল, বিশেষ করে পৌরাণিক ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতির ‘পেগাসাস’ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। পেগাসাসের কাছাকাছি অবস্থানে থাকা অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের জন্যও সেপ্টেম্বর অত্যন্ত উপযুক্ত সময়। শহরের আলো থেকে দূরে অন্ধকার স্থান থেকে খালি চোখে এর আবছা অস্তিত্ব বোঝা গেলেও বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপের সাহায্যে এই দূরবর্তী ছায়াপথটি চমৎকারভাবে শনাক্ত করা যাবে।
চাঁদের অবস্থান ও ঋতু পরিবর্তনের দিক থেকেও এ পক্ষকাল বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। ঢাকার স্থানীয় সময় অনুযায়ী আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদ তার প্রথম চতুর্থাংশের (ফার্স্ট কোয়ার্টার) পর্যায়ে প্রবেশ করবে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর ঘটবে শরৎ বিষুব; এদিন সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করায় পৃথিবীর উভয় গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য সমান হবে এবং এরপর থেকে উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে রাতের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকবে।
এ পাক্ষিকের অন্যতম মূল আকর্ষণ হিসেবে ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে পূর্ণিমা সংঘটিত হবে। শরৎ বিষুবের সবচেয়ে কাছাকাছি সময়ের পূর্ণিমা হওয়ায় এটিকে ‘হারভেস্ট মুন’ বলা হয়ে থাকে। দিগন্তরেখার কাছাকাছি অবস্থানকালে বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবের কারণে এই চাঁদকে অনেক সময় হালকা কমলা বা সোনালি আভায় জ্বলজ্বল করতে দেখা যায়। তবে এ সময় কোনো চন্দ্রগ্রহণ থাকছে না; ২০২৬ সালের একমাত্র আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি গত ২৭-২৮ আগস্ট সম্পন্ন হয়েছিল, যা বাংলাদেশ থেকে দেখা যায়নি।
মহাকাশ গবেষকদের মতে, শহরের কৃত্রিম আলোকদূষণ থেকে মুক্ত, খোলামেলা এবং পরিষ্কার দিগন্ত রয়েছে এমন স্থান রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য সবচেয়ে উপযোগী। বিশেষ করে চাঁদের আলো কম থাকা দিনগুলোতে অ্যান্ড্রোমিডার মতো অনুজ্জ্বল ও গভীর আকাশের মহাজাগতিক বস্তুগুলো অনেক বেশি স্পষ্টভাবে উপভোগ করা সম্ভব।

