সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে শাবিপ্রবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:০০

সিলেট নগরীর চৌকিদিঘী এলাকায় একটি বাণিজ্যিক সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে নেমে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম দিপাঞ্জন ঘোষ প্রিয়ম (২১)।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ছয়টার দিকে এয়ারপোর্ট রোডের ‘ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলে’ এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রিয়ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার পৈতৃক নিবাস সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে হলেও তার পরিবার ঢাকার মোহাম্মদপুরে বসবাস করে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন সুরমা আবাসিক এলাকার একটি মেসে থেকে পড়াশোনা করতেন।

সহপাঠী ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে বন্ধুদের সঙ্গে ওই সুইমিংপুলে সাঁতার কাটতে যান প্রিয়ম। বিকেল পাঁচটার দিকে পানিতে নেমে একপর্যায়ে তিনি সুইমিংপুলের ৯ ফুট গভীর অংশে চলে যান। অন্য সহপাঠীরা সাঁতারে ব্যস্ত থাকার ফাঁকে পৌনে ছয়টার দিকে তাকে গভীর পানিতে অচেতন অবস্থায় দেখতে পান দায়িত্বরত কর্মচারীরা। দ্রুত তাকে পানি থেকে তুলে প্রাথমিক সেবা দিয়ে নগরীর দরগাহ গেট এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্রে (আইসিইউ) ইসিজি পরীক্ষার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ব্রিটেনিয়া সুইমিংপুলের প্রশিক্ষক আমিরুল ইসলাম জানান, প্রতিষ্ঠানটির নিয়ম অনুযায়ী দক্ষভাবে সাঁতার না জানলে ছয় ফুটের বেশি গভীর পানিতে নামার অনুমতি নেই। তবে প্রিয়ম অসাবধানতাবশত ৯ ফুট গভীর এলাকায় চলে গিয়েছিলেন। এক কর্মচারী তাকে পানির নিচে দেখতে পেয়ে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করে শাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. মুখলেসুর রহমান জানান, শিক্ষার্থীর পরিবারকে খবর দেওয়া হয়েছে এবং মরদেহটি বর্তমানে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে রাখা হয়েছে। সুইমিংপুল কর্তৃপক্ষের কোনো অবহেলা বা তদারকির ঘাটতি ছিল কি না, তা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন খতিয়ে দেখবে এবং কোনো গাফিলতি পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সিলেট বিমানবন্দর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুস সালাম জানান, ঘটনার বিষয়ে পুলিশ অবগত রয়েছে এবং হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধারের পর প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ইত্তেফাক/এনএন