টাকা তোলার সুযোগ পেয়েও ৭১% গ্রাহক ফেরত নেননি আমানত

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮

দীর্ঘদিন আটকে থাকা আমানত ফেরত পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার পরও সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়নি। বরং ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমানত ফেরতের আবেদন করা গ্রাহকদের প্রায় ৭১ শতাংশই এখনো টাকা তোলেননি। একই সময়ে ব্যাংকটিতে নতুন করে প্রায় ৮৯৪ কোটি টাকা আমানত জমা হয়েছে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, ১ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক লাখ ২৪ হাজার ৮৭৭ গ্রাহক পাঁচ হাজার ৫১১ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। এর মধ্যে ৩৫ হাজার ৯০৭ গ্রাহক এক হাজার ৪৩১ কোটি টাকা তুলেছেন। ফলে আবেদন করা গ্রাহকদের বড় অংশের আমানত এখনো ব্যাংকেই রয়েছে।

প্রথম দিকে টাকা তোলার আগ্রহ বেশি থাকলেও পরবর্তী সময়ে গ্রাহকদের সেই চাপ কমে আসে। ১ সেপ্টেম্বর ১৮ হাজার ৪৬ গ্রাহক এক হাজার ৩২৫ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর আট হাজার ১২৫ জন ৩১৯ কোটি টাকা তোলেন।

২ সেপ্টেম্বর ১৯ হাজার ৬১৩ গ্রাহক এক হাজার ১৬ কোটি টাকা ফেরতের আবেদন করেন। তাদের মধ্যে ৮ সেপ্টেম্বর সাত হাজার ২৩৪ জন ৩৪০ কোটি টাকা তোলেন। পরবর্তী দুই দিনে গ্রাহকেরা যথাক্রমে ৩৮১ কোটি ও ৩৯১ কোটি টাকা তোলেন।

অন্যদিকে, টাকা উত্তোলনের পাশাপাশি ব্যাংকটিতে নতুন আমানতও আসছে। ৭ থেকে ১০ সেপ্টেম্বর চার দিনে নতুন করে ৮৯৪ কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে ৭ সেপ্টেম্বর ১৪১ কোটি, ৮ সেপ্টেম্বর ১৯৫ কোটি, ৯ সেপ্টেম্বর ২৪৪ কোটি এবং ১০ সেপ্টেম্বর ৩১৪ কোটি টাকা জমা হয়।

ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, আবেদন করেও গ্রাহকদের বড় একটি অংশ টাকা তুলছেন না। শাখা থেকে ফোন করা হলে অনেকে পরে টাকা না তোলার কথা জানাচ্ছেন। এতে ব্যাংকের প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ফেরার বিষয়টি বোঝা যাচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকের অর্থের প্রবাহ ও লেনদেনও প্রায় স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। ক্যাশ লেনদেনের পাশাপাশি আরটিজিএস, বিএফটিএন ও ক্লিয়ারিং কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বলেন, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল আমানতকারীদের আস্থা ফেরানো। আপাতত আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেওয়া ব্যবস্থাপনার ওপরও চাপ কমেছে।

এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। আমানত ফেরত দিতে ব্যাংকটিকে পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শুরুতে আমানতের ওপর ‘হেয়ারকাট’ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও পরে তা বাতিল করা হয়। এরপর ৭ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তি আমানতকারীরা প্রয়োজন অনুযায়ী আমানত তোলার সুযোগ পান।

তবে আমানত উত্তোলনের চাপ কম থাকাকে এখনই স্থায়ীভাবে গ্রাহকদের আস্থা ফিরে আসার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন না খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের মতে, ব্যাংকটির সামনে এখনো বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

পাঁচ ব্যাংকের প্রায় ১৬ হাজার জনবল, ৭৫৯টি শাখা ও প্রায় ৭০০ উপশাখার পুনর্বিন্যাসের পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমানো এবং কার্যক্রমে দক্ষতা বাড়াতে হবে।

এ ছাড়া খেলাপি ঋণও নতুন ব্যাংকটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। গত জুন শেষে একীভূত হওয়া পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক লাখ ৬৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। আমানতকারীদের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি খেলাপি ঋণ আদায়, অনিয়ম বন্ধ ও সুশাসন নিশ্চিত করাও ব্যাংকটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ইত্তেফাক/এসএ