সৌদির ক্ষতিগ্রস্ত তেল পাইপলাইন দ্রুত চালুর আশ্বাস, বিশ্ববাজারে কমলো তেলের দাম

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৯:০৮

হুথিদের ড্রোন হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল পাইপলাইন ‘দ্রুতই’ চালু হতে পারে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট। তার এমন আশ্বাসের পর টানা দ্বিতীয় দিনের মতো আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমেছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০৩ দশমিক ৫০ ডলারে নেমে আসে। বুধবার দাম ছিল ১০৫ ডলার এবং মঙ্গলবার ছিল ১০৮ ডলার। 

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের অবসানে এখনও কোনো সমঝোতার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই। যুদ্ধের কারণে পারস্য উপসাগর থেকে তেল সরবরাহ ব্যাপকভাবে কমেছে। এর পাশাপাশি ইয়েমেনে সৌদি আরব ও ইরান-সমর্থিত হুথিদের মধ্যে লড়াইও বেড়েছে। এতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ তেল পরিবহনপথ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তবে সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট ক্রুড অয়েল পাইপলাইন দ্রুত সচল হওয়ার সম্ভাবনা তেলবাজারে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে। হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানোর জন্য এই পাইপলাইন গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প পথ হিসেবে কাজ করে।

গত সপ্তাহে ড্রোন হামলার পর পাইপলাইনটির কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সৌদি কর্মকর্তারা হামলার জন্য ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইরাকভিত্তিক কয়েকটি গোষ্ঠীকে দায়ী করেছেন।

ফক্স বিজনেসকে ক্রিস রাইট বলেন, পাইপলাইনের ক্ষয়ক্ষতির মূল্যায়ন এখনও চলছে। হামলায় তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে দুটির ক্ষতি তুলনামূলক কম হলেও একটি স্টেশনের ক্ষতি বেশি হয়েছে। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হবে এবং পাইপলাইনটি ‘তুলনামূলক দ্রুত’ চালু করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে রাইট জানান, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর নিরাপত্তায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল ও পরিশোধিত তেলজাত পণ্য পরিবহন হয়েছে।

তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে আরও বেশি পরিশোধিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত পণ্য মিলিয়ে গত সাত দিনের গড় সরবরাহ বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ ব্যারেল। এই পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুদ্ধ শুরুর আগে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হতো। ফলে বর্তমান সরবরাহ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

 
ইত্তেফাক/আরএইচ