পথকুকুরের উৎপাত বেড়েছে, অভিযোগ জানিয়েও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি—এমন অভিযোগে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন ভারতের শিবসেনার (ইউবিটি) যুব শাখার কর্মীরা। মহারাষ্ট্রের নাসিকের নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর একে একে চারটি কুকুর ছেড়ে দেন তারা।
এ সময় কর্মকর্তার সঙ্গে প্রতিবাদকারীদের কথা-কাটাকাটিও হয়।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, পথকুকুরের সংখ্যা বাড়তে থাকলেও এ বিষয়ে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি অভিযোগ করে তারা এই অভিনব প্রতিবাদ করেন।
ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দলটির যুব শাখার জেলা প্রধান বিক্রম রনধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে ছোট একটি কুকুর বের করে ধীরজ ভামরের টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন। পরে আরও কুকুর সেখানে ছেড়ে দেওয়া হয়।
হঠাৎ এমন ঘটনায় চমকে যান ভামর। চেয়ারে বসা অবস্থায় তিনি টেবিল থেকে সরে যান। পরে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসেন। বস্তার মধ্যে আটকে থাকায় আতঙ্কিত কুকুরটি একপর্যায়ে দৌড়ে অফিসের এক কোণে চলে যায়। কয়েক সেকেন্ড পর বস্তা থেকে আরও একটি কুকুর বের করা হয়। সেটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে এক কোণের চেয়ারে বসে পড়ে।
এরপর রাজনৈতিক দলের অন্য সদস্যদের সঙ্গে থাকা রনধাভে নিজের গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে তৈরি একটি মালা পরিয়ে নেন। তিনি ভামরের কাছে এগিয়ে যেতে চাইলে কর্মকর্তারা তাকে বাধা দেন। এ সময় তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। এ সময় গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে ভামরের কাছে কতবার অভিযোগ জানানো হয়েছে, তা তাকে মনে করিয়ে দেন রনধাভে।
এনডিটিভিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে রনধাভে বলেন, ‘প্রতিটি গ্রাম, সড়ক ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে আমি নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরেকে বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নিতে বলে আসছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছোট শিশুও কুকুরের কামড়ের শিকার হয়েছে। অনেক মানুষ ও নারীকে কুকুর তাড়া করেছে। আমি তাকে এলাকার পরিস্থিতি দেখিয়েছি, ছবি পাঠিয়েছি এবং বারবার বিষয়টি দেখার কথা বলেছি। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি বলে মনে হওয়ায় প্রতিবাদ হিসেবে তার টেবিলের ওপর চারটি কুকুর ছেড়ে দিয়েছি।’
রনধাভে অভিযোগ করেন, ভামর মূলত টেন্ডারের কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। এ কারণেই শিবসেনার কর্মীরা নোট দিয়ে তৈরি মালা নিয়ে গিয়েছিলেন। ওই মালাগুলোও তার টেবিলের ওপর রাখা হয়।
এ ঘটনাকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে রনধাভে বলেন, আগামী আট দিনের মধ্যে কোনো ব্যবস্থা না নিলে ভামরের অফিসে আরও কুকুর ছেড়ে দেয়া হবে। রনধাভে বলেন, ‘গণেশ উৎসব চলছে। মানুষ যখন আরতিতে যায়, তখন কুকুর তাদের পেছনে দৌড়ায় এবং ছোট শিশুদের কামড় দেয়। পথকুকুরের কারণে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।’
প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টির গুরুত্ব বুঝবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

