জমি বিক্রি নিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নারীসহ আহত ২০

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:৫৯

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জমি বিক্রিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ দুই পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার ভাটারা ইউনিয়নের চর হরিপুর (নয়াপাড়া) জামে মসজিদ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর হরিপুর গ্রামের রমিজলের সঙ্গে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। ঘটনার দিন সকালে রঞ্জু মিয়ার একটি জমি বিক্রি নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে মোয়াজ্জেম গালিগালাজ ও হুমকি দেন। এর জের ধরে মোয়াজ্জেমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র-লাঠি, বাঁশ, রড, হকিস্টিক, ছুরি ও রামদা নিয়ে রমিজলের লোকজনের ওপর আচমকা হামলা চালান।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চর হরিপুর গ্রামের রমিজলের সঙ্গে প্রতিবেশী মোয়াজ্জেম হোসেনের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন সকালে রঞ্জু মিয়ার একটি জমি বিক্রির বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে মোয়াজ্জেম গালিগালাজ ও হুমকি দেন।

এরপর মোয়াজ্জেমের পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্র, লাঠি, বাঁশ, রড, হকিস্টিক, ছুরি ও রামদা নিয়ে রমিজলের পক্ষের লোকজনের ওপর হামলা চালান বলে অভিযোগ রয়েছে।

হামলায় রমিজল, সোহাগ, মহর আলী, ছাইদর, মোখলেছুর রহমান, সবুজ, শাহালী, হায়দর আলী, জিহাদ, সুফিয়া, সিফাত, হৃদয় ও সোনালী বেগম আহত হন। এছাড়া ঝগড়া থামাতে গিয়ে বাবলু, রেবা, হাবিজল ও আলতাফুর রহমান নামের স্থানীয় কয়েকজন পথচারী আঘাতপ্রাপ্ত হন। 

স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। গুরুতর আহতদের সেখানে ভর্তি করা হয়েছে এবং অন্যদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পর হামলাকারীরা পুনরায় ক্ষতিসাধনের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে জানান ভুক্তভোগী রমিজুল (৪০)। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে মোয়াজ্জেমকে প্রধান আসামি করে আনোয়ার হোসেন অনিল, আজাদ নানু, সুলতান, নওশাদ, সোলায়মানসহ ১৩ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে আসামি করে সরিষাবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

সরিষাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 
ইত্তেফাক/এমএস