পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘ ২৮ বছর পর জোড়াফুল প্রতীক ছাড়াই ভোটে লড়তে যাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসের দুই শিবির। দলীয় প্রতীক ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের মধ্যে আপাতত কোনও পক্ষকেই আসল তৃণমূল হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি ভারতের নির্বাচন কমিশন।
আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর আসনে বিধানসভার উপনির্বাচন হবে। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে কমিশন জানায়, উপনির্বাচনে তৃণমূলের কোনও পক্ষই জোড়াফুল প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না। পাশাপাশি ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ নামটিও ব্যবহার করা যাবে না।
কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, দুই পক্ষকে আলাদা নাম বেছে নিতে হবে এবং উপনির্বাচনের জন্য সংরক্ষিত প্রতীকের তালিকা থেকে পৃথক প্রতীক নিতে হবে। তবে এটিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখছে না কমিশন। দলীয় নিয়ন্ত্রণ ও প্রতীক নিয়ে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়া হবে।
১৯৯৮ সালে তৃণমূল কংগ্রেসের যাত্রা শুরু হয়। দলটির জোড়াফুল প্রতীক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে আঁকা বলে উল্লেখ করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। সেই প্রতীক নিয়েই গত ২৮ বছর ধরে নির্বাচনে লড়েছে তৃণমূল। এবার প্রথমবারের মতো উপনির্বাচনে সেই প্রতীক থাকছে না।
বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের পরাজয়ের পর দলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন বিক্ষুব্ধ শিবিরের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। দুই পক্ষই নিজেদের আসল তৃণমূল বলে দাবি করছে।
এই বিরোধের মধ্যেই প্রতীক ও দলীয় নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছে দুই পক্ষ। ঋতব্রত শিবির জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী ছিল। তবে শেষ পর্যন্ত কমিশন কোনও পক্ষকেই প্রতীকটি দেয়নি।
উপনির্বাচনের মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময়সীমা বুধবার শেষ হয়েছে। নন্দীগ্রামে মমতা শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে এবং রেজিনগরে রবিউল আলম চৌধুরী। অন্যদিকে ঋতব্রত শিবির নন্দীগ্রামে মহম্মদ এহেতাশ মুল হক এবং রেজিনগরে শেখ সফিউদ্দিন জামানকে প্রার্থী করেছে।
এখন দুই শিবিরকে আলাদা প্রতীক ও নাম নিয়ে উপনির্বাচনে অংশ নিতে হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতীক ও নাম সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষ করার কথা রয়েছে।
ঋতব্রত শিবিরের অন্যতম নেতা আখরুজ্জামান বলেন, তারা জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার আশা করেছিলেন। তবে উপনির্বাচনের সময়সীমার কারণে কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। ভবিষ্যতে জোড়াফুল প্রতীক পাওয়ার বিষয়ে তারা আশাবাদী বলেও জানান।
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

