ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় ২১ নেতা সরাসরি বৈঠক করেছেন। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাতে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় বলে দলটি তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
জানা যায়, গতকাল রাত নয়টার দিকে বৈঠকটি শুরু হয়। এর আগে আলাদা আলাদা গাড়িতে প্রায় একই সময়ে ক্রিম রঙের তিনতলা একটি ভবনে পৌঁছান নেতারা।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটি ও সম্পাদকমণ্ডলীর কয়েকজন নেতা বিভিন্ন দেশ থেকে ভার্চ্যুয়ালি বৈঠকে যুক্ত হন। বর্তমানে কেন্দ্রীয় কমিটিতে নেই, তবে ভবিষ্যতে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আসতে পারেন এমন কয়েকজনও দিল্লিতে বৈঠকে অংশ নেন।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের একাধিক সদস্য এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা অবস্থায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
জানা যায়, দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনা, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ৯ নেতার ফাঁসির রায় প্রত্যাখ্যান করে তা বাতিলের দাবি জানিয়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। একইসঙ্গে আইসিটি ট্রাইব্যুনাল বাতিল, দলীয় কার্যক্রমের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ ৯ দফা দাবি তুলে ধরেছে দলটি।
দলটির ভেরিফায়েড অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে গতকাল প্রচারিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে দেশে বিদ্যমান আর্থসামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় উত্তরণ, তেল-গ্যাস-পানি-বিদ্যুৎ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, অর্থনৈতিক অচলাবস্থা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সভার প্রস্তাবে দ্রব্যমূল্য কমানো, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সরবরাহ নিশ্চিত, বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থান, বন্ধ শিল্পকারখানা চালু, রাজবন্দিদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তাসহ গ্রেপ্তারকৃতদের মুক্তি দাবি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শেখ হাসিনা তার বক্তব্যে বিদ্যমান অবস্থা থেকে দেশকে রক্ষা করতে দেশে ফেরার কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
দলের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সঞ্চালনায় বৈঠকে বক্তব্য দেন-দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বীরবিক্রম, অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন, সুজিত রায় নন্দী, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, উপাধ্যক্ষ রেমন্ড আরেং প্রমুখ।
এর আগে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনার সরকারের পতন হয়। এদিন বোন শেখ রেহানাকে সঙ্গে নিয়ে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পাড়ি জমান শেখ হাসিনা। এরপর থেকে তিনি সেখানেই অবস্থান করছেন।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরে আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হওয়ার যে পরিকল্পনার কথা শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগকে পুনর্গঠনের বিষয়টি বৈঠকের আলোচনায় গুরুত্ব পাওয়ার কথা।
এর আগে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, তিনি ও দলের অন্য জ্যেষ্ঠ নেতারা দেশে ফিরে আদালতে হাজির হতে চান।
শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের সক্রিয় রাজনীতিতে আসার সম্ভাবনার বিষয়টিও বৈঠকে আলোচনার কথা রয়েছে। পুতুল সম্প্রতি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
তাকে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতৃত্বে আনার বিষয়টিও বৈঠকে বিবেচনা করা হতে পারে- এমনটাও দলীয় সূত্র বলছে।
বৈঠক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, পুতুল ছাড়াও চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগের আরও দুই নেতাকে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীতে অন্তর্ভুক্ত করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হওয়ার কথা।
