সুনামগঞ্জে তিন সন্তানকে হত্যার ঘটনায় বেরিয়ে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:০৮

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে তিন সন্তানকে নিয়ে কীটনাশক পান করেছেন এক বাবা। এতে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই বাবাকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনীলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মৃত তিন শিশু হলো—রজনীলাইন গ্রামের সরাফত আলীর মেয়ে মাওয়া আক্তার (১০) এবং ছেলে শামিম মিয়া (৭) ও তামিম মিয়া (২)। তাদের বাবা সরাফত আলী (৩৫) বর্তমানে চিকিৎসাধীন। তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তাহিরপুর সদর হাসপাতালে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. ফৌজিয়া জানান, ধারণা করা যাচ্ছে ঘটনা রাতে ১টা বা দেড়টার দিকে ঘটেছে। পরে সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে তিন সন্তান ও বাবাকে উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দেখা যায় শিশু তিনজন হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই মারা গেছে। আর বাবা শরাফতকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

প্রতিবেশী ও আত্মীয় রনু মিয়া বলেন, শরাফত মিয়ার স্ত্রী সৌদি আরব প্রবাসী। ঘটনার দিন দিনে তিন শিশু সন্তানকে সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় বড়ছড়া বাজারে আসেন শরাফত মিয়া। বাড়ি ফেরার পথে সঙ্গে করে বিরিয়ানি নিয়ে যান। ধারণা করা হচ্ছে বিরিয়ানির সঙ্গে বিষ মিশিয়ে তা সন্তানদের খাইয়ে নিজেও খান। তিনি আরও জানান, শরাফত জুয়ায় ও মাদকে আসক্ত।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফারুক আহমদ বলেন, তিন শিশুর মরদেহ বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে মরদেহগুলো সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আশপাশে খোজঁ নিয়ে জানা গেছে শরাফত মিয়া জুয়ায় ও মাদকে আসক্ত।

 

ইত্তেফাক/এনটিএম