নতুন পে-স্কেলে সরকারি কর্মচারীদের উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম চালু করেছে সরকার। এখন থেকে কোনো পদে টানা আট বছর চাকরি করার পর পদোন্নতি না হলে সংশ্লিষ্ট কর্মচারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরবর্তী উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা পাবেন। প্রথমবার এ সুবিধা পাওয়ার পর একই পদে আরও ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুবার এ সুবিধা পাওয়া যাবে।
সরকারের জারি করা গেজেট অনুযায়ী, যেসব স্থায়ী কর্মচারী ২০২৬ সালের ১ জুলাইয়ের আগে একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ করেছেন, কিন্তু ১০ বছর পূর্ণ করেননি, তারাও ১ জুলাই ২০২৬ থেকে প্রথম উচ্চতর গ্রেডের সুবিধার আওতায় আসবেন। তবে এ সুবিধা পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর চাকরির রেকর্ড ও সার্বিক সেবা সন্তোষজনক হতে হবে।
নিয়ম অনুযায়ী, একই পদে আট বছর চাকরি পূর্ণ হলে প্রথমবার এবং এরপর আরও ছয় বছর পূর্ণ হলে দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেড পাওয়া যাবে। তবে উচ্চতর গ্রেডের মাধ্যমে বেতন ও স্কেলের আর্থিক সুবিধা বাড়লেও এটি পদোন্নতি হিসেবে গণ্য হবে না।
নতুন এ সুবিধা বেতনস্কেলের চতুর্থ গ্রেড পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। অর্থাৎ চতুর্থ গ্রেডে থাকা কোনো কর্মচারী এ সুবিধা নিয়ে তৃতীয় বা তার ওপরে গ্রেডে যেতে পারবেন না।
গেজেটে আরও বলা হয়েছে, কোনো স্থায়ী কর্মচারী একই পদে উচ্চতর গ্রেডের আর্থিক সুবিধা দুইবারের বেশি পাবেন না। আগের বেতনস্কেলের আওতায় একই পদে দুই বা তার বেশি সিলেকশন গ্রেড, টাইম স্কেল বা উচ্চতর গ্রেড পেয়ে থাকলে নতুন বেতনস্কেলের আওতায় ওই পদে আর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে না।
তবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত একই পদে কোনো কর্মচারী মাত্র একটি উচ্চতর স্কেল বা গ্রেড পেয়ে থাকলে, পরবর্তী ছয় বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর তিনি দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
এ ছাড়া পদোন্নতির কোনো বিধান নেই এমন ‘ব্লকড’ পদে কর্মরত কর্মচারীদের জন্য তৃতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পর একই পদে আরও আট বছর চাকরি পূর্ণ করলে এ সুবিধা পাওয়া যাবে। তবে একই পদে পুরো চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ তিনবার উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
১ জুলাইয়ের বেতন নির্ধারণ যেভাবে
নতুন বেতনস্কেলে কর্মচারীদের বেতন নির্ধারণের পদ্ধতির একটি উদাহরণও গেজেটে দেওয়া হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোনো কর্মচারীর বর্তমান স্কেলে মূল বেতন ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা হলে নতুন স্কেলের সংশ্লিষ্ট ধাপে তাঁর মূল বেতন ২৬ হাজার ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হবে।
গেজেটের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরোনো স্কেলের বর্তমান বেতন থেকে ওই স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন বাদ দিয়ে যে পার্থক্য পাওয়া যাবে, তা নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। এরপর পাওয়া অঙ্কের সমান কোনো ধাপ না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপে বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
২০২৬ সালের ১ জুলাই পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারীর বেতন প্রথমে নিম্নপদে নির্ধারণ করতে হবে। এরপর পদোন্নতিপ্রাপ্ত পদের বিধি অনুযায়ী তাঁর বেতন নির্ধারণ করা হবে। আর প্রেষণে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে মূল প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে যে বেতন পেতেন, তার ভিত্তিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা হবে।
ছুটিতে থাকা কর্মচারীদের বেতনও নির্দিষ্ট নিয়মে নতুন স্কেলে নির্ধারণ করা হবে। তবে ছুটির সময়ে নতুন বেতনস্কেলের কারণে যে অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা সৃষ্টি হবে, তা ছুটিকালীন সময়ের জন্য প্রাপ্য হবে না।

