কর্ণফুলীতে গোসল করতে নেমে চবি শিক্ষার্থীর মৃত্যু

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:০৯

রাঙ্গামাটির কাপ্তাইয়ে বেড়াতে গিয়ে কর্ণফুলী নদীতে ডুবে মো. শাজিদ শাহরিয়ার (২৪) নামে এক পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার সীতারঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় তিন ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালানোর পর বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঘটনাস্থলের কাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরিরা।

নিহত শাজিদ নরসিংদীর মো. নাছির উদ্দীনের ছেলে। তার বাবা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি)।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ও নরসিংদী থেকে ১২ জনের একটি দল কাপ্তাইয়ের সীতার পাহাড় এলাকায় বেড়াতে যায়। দুপুরে ঘোরাঘুরি শেষে তারা কর্ণফুলী নদীর পাথরঘাটা এলাকায় গোসল করতে নামেন। একপর্যায়ে পা পিছলে নদীতে পড়ে যান শাজিদ। পরে তিনি পানিতে তলিয়ে যান।

ঘটনাস্থলে থাকা এক গণমাধ্যমকর্মী ‘আলোকিত কাপ্তাই’ নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করেন। সেখানে শাজিদের বন্ধুদের নদীর তীরে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়। তার এক বন্ধু বলেন, ‘হঠাৎ পা পিছলে শাজিদ পানিতে পড়ে যায়। পড়ে যাওয়ার পর সে “বাঁচাও, বাঁচাও” বলে চিৎকার করছিল। কিন্তু আমরা কেউ সাঁতার না জানার কারণে তাকে বাঁচাতে পারিনি।’

কাপ্তাই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, দুপুর দেড়টার দিকে খবর পেয়ে উদ্ধারকারী ও ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযান শুরু করে। কর্ণফুলী নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা বেগ পেতে হয়।

তিনি বলেন, রাঙ্গামাটি থেকে একটি ডুবুরি দলও অভিযানে যোগ দেয়। পাশাপাশি কাপ্তাই নৌবাহিনী ঘাঁটি শহীদ মোয়াজ্জেমের ডুবুরি দল এবং কাপ্তাই থানা-পুলিশ উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করে।

পরে নিখোঁজ হওয়ার স্থান থেকে প্রায় ৪০ ফুট দূরে নদীর ভেতর থেকে শাজিদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার শেষে মরদেহটি কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

কাপ্তাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মাহমুদুল হাসান রুবেল বলেন, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল মরদেহটি উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কাপ্তাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রুইহ্লা অং মারমা বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই শাজিদের মৃত্যু হয়েছে। 

ইত্তেফাক/এসজেএস