চট্টগ্রামে নিয়ন্ত্রণে আসছে না হামের প্রাদুর্ভাব। প্রতিনিয়ত আক্রান্তের পরিমাণ বাড়ছে। পাশাপাশি বেড়েই চলেছে ডেঙ্গু রোগী। ডেঙ্গুর চেয়ে হামে আক্রান্ত শিশু বেশি হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে। চিকিত্সকরা জানান, হামে আক্রান্তদের মধ্যে অধিকাংশই হচ্ছে চরম পুষ্টিহীনতা অন্যতম কারণ। হামে আক্রান্তরা একই সঙ্গে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। নগরীর সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে ৩০৭ জন হামে আক্রান্ত ভর্তি রয়েছে। চমেক হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ১০ বেডের আইসিইউ খালি নেই।
চমেক হাসপাতালে হাম ও ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড করা হয়েছে। সরকারি এই হাসপাতালে হামে ও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগী বেশি। শিশু ওয়ার্ডে ধারণ ক্ষমতার তিন গুণ রোগী বেশি ভর্তি রয়েছে।
চিকিত্সকরা জানান, টিকা দেওয়ার পরও কেন হামে আক্রান্ত রোগী বাড়ছে। হাম উচ্চমাত্রায় সংক্রমণশীল। হামের রোগীদের জন্য আইসোলেশন জরুরি। টিকা প্রদান ও আইসোলেশন দুটোই নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র পরিবারের শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে হবে।
চমেক হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. মুছা মিয়া ইত্তেফাককে বলেন, হামে আক্রান্ত রোগী সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। হামে আক্রান্ত ১৯০ থেকে ২০০ রোগী ভর্তি থাকে। আইসিইউতেও হামে আক্রান্ত শিশু ভর্তি রয়েছে। আইসিইউ খালি না হলে ভর্তি দেওয়া যাচ্ছে না। হামের সঙ্গে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। হামে আক্রান্ত অধিকাংশ শিশু চরম অপুষ্টিহীনতা ভুগছে। এদের মধ্যে দরিদ্র পরিবারের শিশু বেশি। যারা হামে টিকা দেয়নি তাদের মধ্যে আক্রান্তের হার বেশি। তিনি আরও বলেন, শনাক্ত হওয়ার আগে নানা উপসর্গ নিয়ে জেনারেল ওয়ার্ডেও হামের রোগী থাকছে। তাদের সংস্পর্শে সাধারণ রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ হচ্ছে। অন্য রোগীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে আবার হাম নিয়ে হাসপাতালে আসছে। হামের জন্য পৃথক হাসপাতাল করা গেলে সংক্রমণ কমবে। চিকিৎসা দেওয়া সহজ হবে।”
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, সরকার এখন নতুন করে হামের টিকাদান কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। শিগগিরই এই টিকাদান কর্মসূচি শুরু হবে। চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. সাজেদুর রহমান ইত্তেফাককে বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে আসছে না। প্রতিদিন অসংখ্য শিশু হাসপাতালে ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চেম্বারে হামের উৎস নিয়ে ভিড় করছে। আগের ৯ মাস বয়সি শিশুদের হামের টিকা দেওয়া হতো। এখন ছয় মাস বয়স থেকে হামের টিকা দেওয়া হবে।’
বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকরা জানান, হাসপাতালগুলোতে শয্যার সংকট রয়েছে। এক সিটে একাধিক শিশুকে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যার কারণে হামের সংক্রমণ হচ্ছে। হাম উচ্চমাত্রায় সংক্রমণশীল।
একজন রোগী থেকে ১২-১৫ জনের শরীরে সংক্রমণ হতে পারে। তাই আইসোলেশন খুবই দরকার। আক্রান্তকে আলাদা না রাখলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়ায়। সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিধি অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, কোভিডে যেভাবে আইসোলেশন করা সম্ভব হয়েছিল, হামের বেলায় তা হচ্ছে না। যদি কঠোরভাবে আইসোলেশন করা যায় এবং ৯৫ শতাংশ শিশুকে টিকার আওতায় আনা যায়, তাহলে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।
এদিকে চোখ রাঙ্গাচ্ছে ডেঙ্গু। গতকাল রবিবার গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৮৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছরে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৩৫৩ জনে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৩৯ জন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) হাসপাতালে ১৭ জন, ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ১৬ জন, চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালে তিন জন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে তিন জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঁচ জন ভর্তি হয়েছে।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. ইমাম হোসেন বলেন, চসিকের পক্ষ থেকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আন্তঃ ও বহির্বিভাগ চালু করা হয়েছে। বিনামূল্যে ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা হচ্ছে।

