জাতীয় সংসদের প্যাড, সাদা কাগজ কিংবা লাল-কালো কালির আঁচড়—পাতাজুড়ে ছড়িয়ে আছে এক জটিল সম্পর্কের টানাপোড়েন। কোথাও তীব্র অনুরাগ, কোথাও প্রতারণার ক্ষোভ, আবার কোথাও আত্মমর্যাদা রক্ষার কঠিন লড়াই।
সংসদ সদস্য গাজী নজরুলের বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া একাধিক হস্তলিখিত চিঠিতে এমন চিত্রই উঠে এসেছে। উদ্ধার হওয়া এসব লেখায় সম্পর্কের টানাপোড়েনের পাশাপাশি রয়েছে নিজেকে ‘দাবার ঘুঁটি’ মনে করার আক্ষেপ ও পরিণতির স্পষ্ট সতর্কবার্তা।
‘তুমিই ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি’
জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি অংশে বিশ্বাসভঙ্গের করুণ আক্ষেপ প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে লেখা—
“আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি, হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবোই বা কেমনে, যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।”
অধিকার ও অপূর্ণতার দ্বন্দ্ব
আরেকটি সাধারণ সাদা পাতায় সম্পর্কের সামাজিক বৈধতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে লেখা হয়েছে—

“সে ছিল অন্য নারীর স্বামী—কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা... অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের। কারণ, ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়—ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”
বিশ্বাসের ফাঁদ ও ‘দাবার ঘুঁটি’
আস্থাভঙ্গের অভিযোগ তুলে অপর একটি পাতায় লেখা হয়েছে—
“সে বলেছিল—আজ থেকে আমরা বন্ধু, চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানতো—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক ঘুঁটি।”
হুঁশিয়ারি ও আত্মসম্মানের বয়ান
সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় ক্ষোভের সঙ্গে সতর্কবার্তাও দেওয়া হয়েছে। তাতে লেখা—
“আমি হেরেছি, তুমি জিতেছো। কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। দেখে নাও, এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।”
পাশাপাশি লাল কালিতে লেখা একটি সংক্ষিপ্ত নোটে আত্মমর্যাদার সুর স্পষ্ট। সেখানে বলা হয়েছে—

“শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো, ততটা সস্তা আমি নই!”
চিঠির সঙ্গে ধর্মীয় আমলের পাতা
আবেগ ও ক্ষোভের এসব লেখার পাশাপাশি ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখ লেখা একটি আলাদা পাতাও পাওয়া গেছে। ওই পাতায় ঘুমানোর আগে পাঠ করার জন্য ছয়টি ধর্মীয় আমল ও দোয়ার তালিকা রয়েছে। এতে কালেমা, বিভিন্ন দোয়া, আয়াতুল কুরসি এবং নির্দিষ্ট সংখ্যায় দরুদ শরিফ ও ইস্তিগফারের উল্লেখ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্ধার হওয়া এসব নথির হাতের লেখা ও বিষয়বস্তু গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

