যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে কোনো হামলা চালালে নিজেদের ব্যবহৃত অস্ত্র এবং ‘যুদ্ধের ভূগোল’ পুরোপুরি বদলে ফেলা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রিভোলেশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আইআরজিসির মুখপাত্র হোসেইন মোহিবি এই মন্তব্য করেন।
হোসেইন মোহিবি বলেন, নতুন করে কোনো আক্রমণ হলে তাদের প্রতিরক্ষামূলক ও আক্রমণাত্মক সামরিক কৌশলগত পদক্ষেপে দৃশ্যমান পরিবর্তন আসবে। নতুন ধরনের অস্ত্র ও সক্ষমতা মাঠে নামিয়ে এমন সব নতুন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে যা বিশ্বকে অবাক করে দেবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ইরান দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত এবং যুদ্ধের প্রতিটি ভিন্ন ধাপ মোকাবেলায় আইআরজিসি আগের চেয়েও বেশি প্রস্তুত রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনী কোনো ধরনের কূটনীতিতে যুক্ত নয় এবং তাদের প্রধান দায়িত্ব দেশের প্রতিরক্ষা নিশ্চিত করা বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আইআরজিসি মুখপাত্র আরও দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একচ্ছত্র প্রভাবের অবসান ঘটেছে এবং বর্তমানে ওয়াশিংটনের বদলে ইরানই এই অঞ্চলের নতুন কৌশলগত রূপরেখা নির্ধারণ করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যেই এমন বক্তব্য সামনে এল।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সরকারি ভবন, সামরিক ঘাঁটি ও ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামোতে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়, যার জবাবে ইরানও ইসরায়েল ও আঞ্চলিক মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি এবং জুনে ৬০ দিনের জন্য চুক্তি সই হলেও তা ভেস্তে যায়, তবে বর্তমানে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় সংঘাত নিরসনের চেষ্টা চলছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি

