করোনাকালে ১২ কোটি টাকার দুর্নীতি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে ৬ মামলা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:১০

মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় জরুরি পণ্য ও সেবা ক্রয়ে ১২ কোটি ৯০ লাখ ৪৭ হাজার ৯৮৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৬টি মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন ‘কোভিড-১৯ ইমার্জেন্সি রেসপন্স অ্যান্ড প্যান্ডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস’ প্রকল্পের ৬টি পৃথক প্যাকেজে কেনাকাটায় দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া ওই মামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে মামলাগুলোর অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হলেন– সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কোভিড-১৯ ও ইআরপিপি প্রকল্পের সাবেক প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ডাঃ মো. ইকবাল কবির, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর) ডাঃ সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) অধ্যাপক ডাঃ নাসিমা সুলতানা, সাবেক সহকারী পরিচালক (পরিকল্পনা ও গবেষণা) ডাঃ মো. শরিফুল হাসান, ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডাঃ মোহা. আনোয়ার সাদাত, মেডিকেল অফিসার  ডাঃ অনির্বান সরকার, জাদিদ অটোমোবাইলসের মালিক কাজী শামীমুজ্জামান, মেসার্স ইনশা ট্রেড করপোরেশনের মালিক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, এসআরএস ডিজাইন অ্যান্ড ফ্যাশন লিমিটেডের মালিক মো. সাইফুর রহমান, ই-মিউজিকের মালিক মো. হোসনী ইয়ামিন, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মো. মোস্তফা মনোয়ার ও ব্রেইন স্টেশন ২৩ লিমিটেডের মালিক রইসুল কবির।

প্রথম মামলায় মাস্ক ও গ্লাভস ক্রয়ে ৩ দশমিক ৪৭ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে প্যাকেজ নং– জিডি-০১ (কেএন-৯৫ মাস্ক, এন৯৫ মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লাভস ক্রয়)-এর আওতায় ৩ কোটি ৪৭ লাখ ৯৯ হাজার ১৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় মামলায় ইলেকট্রিক হাসপাতাল বেড ক্রয়ে প্যাকেজ নং– জিডি-১৩ (থ্রি ও ফাইভ ফাংশন ইলেকট্রিক হাসপাতাল বেড ক্রয়ের আওতায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। যেখানে মোট ৬জনকে আসামি করে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

তৃতীয় মামলা কেএন৯৫ মাস্ক ক্রয়ে ৯৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। কেএন৯৫ মাস্ক ক্রয়ে ৯৩ লাখ ৯৮ হাজার ৭৫০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকসহ ৮ জনকে আসামি করা হয়েছে।


চতুর্থ মামলায় প্রচারণার টিভিসি না বানিয়ে ৬২ দশমিক ৭৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক পিডি অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির, সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা ও অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এবং ই-মিউজিকের প্রোপ্রাইটর মো. হোসনী ইয়ামিনকে আসামি করা হয়েছে।

পঞ্চম মামলায় প্যাকেজ নং– জিডি-০৮ (হ্যান্ড হেল্ড থার্মোমিটার ও কেএন৯৫ মাস্কসহ মেডিকেল মালামাল ক্রয়)– এর মাধ্যমে ২ কোটি ১৬ লাখ ৯৭ হাজার ৬১৫ টাকা অতিরিক্ত পরিশোধ ও আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক পিডি অধ্যাপক ডা. মো. ইকবাল কবির, ডা. সানিয়া তাহমিনা ঝোরা, অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা, সিম করপোরেশনের ম্যানেজিং পার্টনার মো. মোস্তফা মনোয়ার, ডা. মো. শরিফুল হাসান, ডা. মোহা. আনোয়ার সাদাত ও ডা. অনির্বাণ সরকারকে আসামি করা হয়েছে।

অ্যাপ ও ওয়েব অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতে ৩ দশমিক ৩২ কোটি টাকা আত্মসাতে ৬ষ্ঠ মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্যাকেজ নং– এসডি-০১ (করোনাবিডি মোবাইল অ্যাপ ও ন্যাশনাল করোনা কেয়ার সিস্টেম সেন্ট্রাল ওয়েব-অ্যাপ্লিকেশন)– এর সেবা ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত পরিশোধ ও আত্মসাতের অভিযোগে মোট ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলার অনুমোদন দেওয়া হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯/৪২০/১২০বি/১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় এসব মামলা দায়ের করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

 
ইত্তেফাক/এনএ