‘১৫৩ অনুচ্ছেদে খুঁজলে ক্রান্তিকালীন সরকারের বৈধতা মিলবে না’

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২:৩৭

জুলাই গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী ক্রান্তিকালীন সরকারের সাংবিধানিক বৈধতা কেবল বিদ্যমান সংবিধানের ১৫৩টি অনুচ্ছেদের আক্ষরিক ব্যাখ্যার মধ্যে মিলবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট শিশির মনির।

তার মতে, বিদ্যমান সাংবিধানিক শূন্যতা ও রাজনৈতিক রূপান্তরের আইনি ব্যাখ্যা নিশ্চিত করতে হলে জনগণের অবিভাজ্য ‘গাঠনিক ক্ষমতা’ বা ‘কনস্টিটিউয়েন্ট পাওয়ার’-এর ওপরই নির্ভর করতে হবে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সুপ্রিম কোর্টের অ্যানেক্স ভবনের সামনে বর্তমান সাংবিধানিক সংকট ও উত্তরণের রূপরেখা নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। শিশির মনির উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতিকে কেবল সংবিধানের ধারা ও উপধারার আক্ষরিক পাঠ দিয়ে বিশ্লেষণ করলে আইনি বিভ্রান্তি তৈরি হবে। সংবিধানকে সঠিকভাবে অনুধাবন করতে হলে এর ঐতিহাসিক পটভূমি, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, সুপ্রিম কোর্টের অতীতের বিভিন্ন রায় এবং আন্তর্জাতিক সাংবিধানিক আইনের বিশেষজ্ঞদের মতামত বিবেচনায় নেওয়া অপরিহার্য।

পরিস্থিতি উত্তরণে সংবিধান ও সাংবিধানিক আইন, সংশোধন বনাম সংস্কার, গণভোট ও ভিন্নমতের মর্যাদা, ক্রান্তিকালীন সময় এবং ত্রয়োদশ সংশোধনী মামলার রায়ের আলোকে আইনি অবস্থান—এই পাঁচটি মৌলিক দিক তুলে ধরেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় আংশিক কোনো ‘সংশোধন’ নয়, বরং প্রয়োজন কাঠামোগত ‘সংস্কার’। জুলাই সনদের মূল চেতনাও এই সংস্কারের পক্ষে।

তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সাধারণ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মৌলিক কাঠামো বা ‘বেসিক স্ট্রাকচার’ পরিবর্তন করা যায় না। প্রস্তাবনা ও রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিসহ মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক কোনো পরিবর্তন শুধু সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ওপর ভিত্তি করে করা আইনত সম্ভব নয়।

সংস্কার বাস্তবায়নের আইনি প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে সংসদের কার্যপ্রণালিবিধির ২৬৬ বিধির উদ্ধৃতি দিয়ে শিশির মনির জানান, এই বিধির অধীনে একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনে কোনো আইনগত বাধা নেই। এছাড়া সংস্কারের চূড়ান্ত বৈধতায় গণভোটের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন, উচ্চকক্ষ বিশিষ্ট আইনসভা প্রতিষ্ঠা কিংবা রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে গণভোটে জনগণ ‘হ্যাঁ’ সূচক রায় দিলে, কোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত সেই গণম্যান্ডেটের বিকল্প হতে পারে না। জনগণের সরাসরি দেওয়া রায়ের বিপরীতে অবস্থান নেওয়া সার্বিক গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইত্তেফাক/এনএন