ভারতের বিহারের জামুইয়ে কোচিং থেকে ফেরার পথে দশম শ্রেণির এক ছাত্রী ও তার সহপাঠীকে আটকে মারধর এবং যৌন হয়রানির ঘটনা ঘটেছে। নির্যাতনের সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে তীব্র প্রতিক্রিয়ার ঝড়। ঘটনাটিকে ‘ভয়াবহ’ আখ্যা দিয়ে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাহুল গান্ধী বলেছেন, এ ধরনের জঘন্য আচরণ করার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি। তার কথায়, নারীদের ওপর অন্যায় নিয়ন্ত্রণকে ভুল করে সংস্কৃতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা হলে দুষ্কৃতিকারীরা নিজেদের আইন মনে করতে শুরু করে। তিনি এটিকে অন্ধ পিতৃতান্ত্রিক মানসিকতার প্রকাশ বলেও মন্তব্য করেছেন।
ঘটনাটি ঘটে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জামুইয়ের মাদওয়া পাহাড় এলাকায়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কোচিং শেষে স্কুটারে করে ওই এলাকায় গিয়েছিল দশম শ্রেণির দুই সহপাঠী। ফেরার পথে একদল যুবক তাদের পথ আটকায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে নাবালক ছাত্রটির সঙ্গে মারধর এবং নাবালিকা ছাত্রীর সঙ্গে অশালীন আচরণের দৃশ্য দেখা যায়। ভিডিওতে তাদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করতেও দেখা যায়। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর জামুই পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ইতিমধ্যে তিন নাবালককে গ্রেফতার করা হয়েছে।
ভিডিও বিশ্লেষণ করে আরও কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে। ঘটনাটির তদন্তে জামুইয়ের উপবিভাগীয় পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশু যৌন অপরাধ প্রতিরোধ আইনে মামলা হয়েছে। পাশাপাশি নাবালকদের মুখ ও পরিচয় প্রকাশ করে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে ১৩টি ফেসবুক, ১২টি ইনস্টাগ্রাম এবং ৭টি এক্স অ্যাকাউন্টের বিরুদ্ধে ভিডিও সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নাবালকের পরিচয় প্রকাশ করে এমন ভিডিও ছড়ানোও আইনত অপরাধ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিহারে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়েও রাজনৈতিক তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেসের পক্ষ থেকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। অন্যদিকে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
প্রশাসন জানিয়েছে ,নাবালিকা ও তার সহপাঠীর পরিচয় গোপন রেখেই তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা।

