জাজিরায় পদ্মার তীব্র ভাঙন, চোখের পলকে পদ্মায় বিলীন বসতবাড়ি

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৫৩

শরীয়তপুরের জাজিরায় আবারও তীব্র রূপ নিয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। ভাঙনের কবলে পড়ে মুহূর্তের মধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে এক প্রবাসীর পুরো বসতবাড়ি। উপজেলার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের আলমখার কান্দী এলাকায় নতুন করে দেখা দেওয়া এ ভাঙনে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে আলমখার কান্দী এলাকায় পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে। নদীর স্রোতে প্রতিদিনই তীরের মাটি ধসে পড়ছে। স্থানীয়দের দাবি, গত কয়েক দিনে প্রায় ২০০ মিটার বা তারও বেশি নদীতীর বিলীন হয়েছে। এতে বসতবাড়ি, দোকানপাট, ফসলি জমি ও স্থানীয় সড়কের বিভিন্ন অংশ ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে।

গতকাল দুপুরে ভাঙনের কবলে পড়ে প্রবাসী জুলহাস খানের বসতবাড়ি। নদী ধীরে ধীরে বাড়িটির কাছে চলে আসার পর ভাঙনের তীব্রতা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে বাড়িটির একটি অংশে ধস নামে। পরে অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো বাড়িটি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়।

জুলহাস খান দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে নির্মাণ করা তাঁর বসতবাড়ি নদীতে বিলীন হওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে আশপাশের বসতবাড়িগুলো নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ভাঙনের আশঙ্কায় নদীতীরবর্তী অনেক পরিবার ইতোমধ্যে ঘরের টিনের চাল, দরজা-জানালা, আসবাবসহ প্রয়োজনীয় মালামাল সরিয়ে নিচ্ছেন। কেউ কেউ স্বজনদের বাড়িতে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দীর্ঘদিনের বসতভিটা হারানোর আশঙ্কায় অনেক পরিবার রাত জেগে বাড়িঘর পাহারা দিচ্ছেন।

আলমখার কান্দীর বাসিন্দা আক্কাস মিয়া বলেন, ‘পদ্মা এভাবে ভাঙতে থাকলে সামনে আরও অনেক বাড়িঘর নদীতে চলে যাবে। আমরা দ্রুত ভাঙন ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি। এখনই ব্যবস্থা না নিলে ক্ষয়ক্ষতি আরও বাড়বে।’

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, শুধু আলমখার কান্দী নয়, জাজিরার পালেরচর ইউনিয়নের কাথুরিয়া ও ফরাজীকান্দি এবং পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের পৈলান মোল্যারকান্দিসহ কয়েকটি নদীতীরবর্তী এলাকাতেও ভাঙন দেখা দিয়েছে। কোথাও বসতভিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে, আবার কোথাও সড়ক, ফসলি জমি ও দোকানপাট ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে।

এর আগে কাথুরিয়া এলাকাতেও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১১০ মিটার নদীতীর বিলীন হয়। এতে সড়ক, কয়েকটি দোকান ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভাঙনের আশঙ্কায় অনেক পরিবার ঘরবাড়ি সরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে দ্রুত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তাঁরা জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলা এবং নদীতীর সংরক্ষণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে শরীয়তপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মিলটন হোসেন বলেন, ‘ভাঙনকবলিত এলাকার বিষয়ে আমরা অবগত আছি। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাঙন রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 
ইত্তেফাক/এমএএম