ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও নারী মেম্বারদের জন্য প্রতীক নির্ধারণ

আপডেট : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৩২

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আর দলীয় প্রতীক থাকছে না। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, সিটি করপোরেশন ও জেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব পর্যায়ের নির্বাচন নির্দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় এ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের জন্য চেয়ারম্যান, সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্য পদে বিভিন্ন প্রতীক বরাদ্দ করে গত ১৭ সেপ্টেম্বর প্রজ্ঞাপন জারি করে ইসি। তবে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়। ইসির ওয়েবসাইটেও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালা প্রকাশিত রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা (সংশোধনী) প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, চেয়ারম্যানদের জন্য ২০ টি, সংরক্ষিত আসনে ১০টি এবং সাধারণ সদস্য প্রার্থীর ১২টি প্রতীক বরাদ্দ রাখা হয়েছে। 

চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি ট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সাধারণ সদস্য পদের জন্য রয়েছে—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের প্রতীকগুলো হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালা, ২০২৬-এর সংশোধনীর মাধ্যমে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে। নতুন বিধান অনুযায়ী, চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীদের ৫ হাজার টাকা জামানত দিতে হবে। কোনো প্রার্থী প্রদত্ত ভোটের ১৫ শতাংশের কম পেলে তার জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।

এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের সম্পদের হিসাব দেওয়ার বিধানও রাখা হয়েছে। প্রার্থীর নিজের পাশাপাশি দেশে ও বিদেশে থাকা সম্পদ এবং নির্ভরশীলদের সম্পদের বিবরণও দিতে হবে।

নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাতেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর সর্বোচ্চ ব্যয়সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

ইসির সাম্প্রতিক প্রকাশনায় স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরের নির্বাচনসংক্রান্ত ২০২৬ সালের আচরণবিধিমালার গেজেটও রয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশন—সব ক্ষেত্রেই নতুন আচরণবিধিমালা প্রকাশ করেছে কমিশন।

ইত্তেফাক/এমএসআর