বাইরে থেকে দেখে মনে হবে সাধারণ কোনো কবুতরের ঘর। কিন্তু এর আড়ালেই লুকিয়ে ছিল শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্র, খাটসহ মানুষের আরামদায়ক থাকার অভিনব সব ব্যবস্থা। গ্রামের প্রধান সড়ক থেকে বাড়ি পর্যন্ত নিখুঁত নিরাপত্তায় বসানো হয়েছিল ২০টি সিসিটিভি ক্যামেরা। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার বিশেষ ব্যবস্থাও ছিল সেখানে। তবে এত সব আধুনিক প্রযুক্তি ও সুক্ষ্ম আয়োজন করেও শেষ রক্ষা হয়নি নাটোরের আলোচিত ‘হ্যাকিং-সম্রাট’ ওহিদুল মোল্লা ওরফে ওহিদের।
গত সোমবার রাতে বিশেষ অভিযান চালিয়ে পুলিশ ওহিদুলসহ মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. আলামিন (২৩) নামের এক পুলিশ কনস্টেবলকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত আলামিন রাজশাহী রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্য এবং নাটোরের লালপুর উপজেলার দুড়দুড়িয়া ইউনিয়নের পানসিপাড়ার আতাহার প্রামাণিকের ছেলে।
গত মঙ্গলবার তাদের নাটোরের লালপুর আদালতে হাজির করা হলে বিচারক সাদ্দাম হোসেন আসামিদের সবাইকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। রাতেই তাদের নাটোর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। প্রধান অভিযুক্ত ওহিদুল মোল্লা (৩২) বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের মোহরকয়া গ্রামের মৃত রব্বেল মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবারের সন্তান ওহিদুল মাত্র পাঁচ বছর আগেও রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন এবং কিছুদিন ইজিবাইকও চালিয়েছেন। এমনকি অতীতে তার বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে আটক হওয়ার রেকর্ডও রয়েছে। তবে সময়ের পরিক্রমায় তিনি জড়িয়ে পড়েন ডিজিটাল প্রতারণা ও সাইবার অপরাধে। বিলমাড়িয়া বাজারসংলগ্ন পদ্মা নদীর ধারে আলিশান বাড়ি তৈরি করে তিনি হ্যাকিং ও মাদক কারবার পরিচালনা করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অবৈধ এই হ্যাকিংয়ের টাকায় তিনি এলাকায় দুটি বিলাসবহুল বাড়িও নির্মাণ করেছেন। লালপুর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম জানান, এলাকায় ওহিদুলকে হ্যাকিং চক্রের ‘গুরু’ হিসেবে মানতেন তার সহযোগীরা।
অভিযানের সময় তার আস্তানা থেকে হ্যাকিংয়ের কাজে ব্যবহৃত ৭টি মুঠোফোন ও ৬৮টি সিম কার্ড জব্দ করে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধারণা, সুসংগঠিত এই চক্রের সঙ্গে আরও অনেকে জড়িত রয়েছে, যাদের গ্রেফতারে তৎপরতা চলছে।

