যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন শি জিনপিং, স্বাগত জানালেন ট্রাম্প

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪৮

বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তির দ্বন্দ্ব ও সহযোগিতার আবহেই যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছালেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমন্ত্রণে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফার্স্টলেডি পেং লি ইউয়ানকে সাথে নিয়ে তিনি ওয়াশিংটনে পৌঁছান।

স্থানীয় সময় বিকেলে অ্যান্ড্রুজ বিমানঘাঁটিতে চীনা প্রেসিডেন্টের উড়োজাহাজ অবতরণের পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। বিমানঘাঁটিতে মার্কিন শিশুরা ফুল দিয়ে শি জিনপিং ও পেং লিয়ুয়ানকে শুভেচ্ছা জানায়। লাল গালিচা বিছানো পথের দুই পাশে গার্ড অব অনার দাঁড়িয়ে থাকে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পাশাপাশি ২১ বার তোপধ্বনি ও যুদ্ধবিমানের উড়াল দিয়ে অভিবাদন জানানো হয়।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও ফার্স্ট লেডিকে স্বাগত জানাতে পেরে তিনি খুবই আনন্দিত। এটি সারা বিশ্বের নজর কেড়েছে এমন একটি সফর। শি জিনপিংকে ‘মহান নেতা’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে তার পদার্পণও একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। দুই দেশের বিভিন্ন ইস্যুতে ফলপ্রসূ আলোচনা ও সম্পর্ক উন্নয়নের প্রত্যাশা করেন তিনি।

জবাবে এক লিখিত বক্তব্যে শি জিনপিং চীনা জনগণের পক্ষ থেকে মার্কিন জনগণের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুটোই মহান দেশ। দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ যোগাযোগ রয়েছে এবং তাদের স্বার্থ গভীরভাবে জড়িত। দুই দেশের উচিত অংশীদার হওয়া, প্রতিদ্বন্দ্বী নয়। চীনা জাতির পুনরুত্থান ও ‘আমেরিকাকে আবার মহান করা’এই দুই লক্ষ্য পরস্পরবিরোধী নয়। এগুলো পাশাপাশি এগিয়ে যেতে পারে এবং বিশ্বকে উপকৃত করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প চীন সফরকালে দুই দেশের মধ্যে গঠনমূলক ও স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন। সেই দিকনির্দেশনা অনুসরণ করে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের উচিত তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়া। সহযোগিতাকে প্রধান ভিত্তি করে, প্রতিযোগিতাকে সংযত রেখে এবং মতপার্থক্য নিয়ন্ত্রণযোগ্য রেখে স্থিতিশীল সম্পর্ক গড়ে তোলা সম্ভব। এভাবেই নতুন যুগে দুই বৃহৎ দেশের সঠিক সহাবস্থানের পথ তৈরি হবে।

শি জিনপিং জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব এগিয়ে চলছে, সময় বদলাচ্ছে। কিন্তু চীন-যুক্তরাষ্ট্রের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ঐতিহাসিক যুক্তি, দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্বের আকাঙ্ক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশা অপরিবর্তিত রয়েছে। তিনি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বৈশ্বিক ইস্যুগুলো নিয়ে গভীর আলোচনার প্রত্যাশা করেন। একই সঙ্গে দুই দেশের যোগাযোগ ও সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন।

এই সফর দুই দেশের জনগণের কল্যাণ বৃদ্ধি করবে এবং বিশ্ব শান্তিতে নতুন আশা জাগাবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন চীনা প্রেসিডেন্ট।

 

ইত্তেফাক/এবিএস