কক্সবাজারের টেকনাফে কথিত বন্দুকযুদ্ধে যুবলীগ নেতা ও পৌর কাউন্সিলর একরামুল হক হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে আজ।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে এ মামলায় গ্রেপ্তার থাকা তিন আসামির জামিন আবেদনের ওপরও আজ আদেশ দেবেন ট্রাইব্যুনাল।
মামলায় মোট ১১ জন আসামির মধ্যে বর্তমানে চারজন গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তারা হলেন— কক্সবাজার-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদি, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আলম এবং র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল (অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে) আনোয়ার লতিফ খান।
অন্যদিকে শেখ হাসিনাসহ পলাতক অন্য সাত আসামি হলেন— সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, মেজর (অব.) রুহুল আমিন, লেফটেন্যান্ট কমান্ডার আশেকুর রহমান এবং ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ পলাতক সাত আসামিকে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়ে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। তবে নির্ধারিত দিনে হাজির না হওয়ায় গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচারকাজ চালিয়ে নিতে সরকারি খরচে আইনজীবী (স্টেট ডিফেন্স) নিয়োগের আদেশ দেওয়া হয়। ওই দিনই গ্রেপ্তার তিন আসামির জামিনের আবেদনের শুনানি শেষে আদেশের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন আদালত।
প্রসিকিউশনের অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৬ মে রাতে টেকনাফের হোটেল নেটংয়ের সামনের সড়ক থেকে কাউন্সিলর একরামুল হককে জোরপূর্বক তুলে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে মেরিন ড্রাইভের নোয়াখালীয়া পাড়া সাগরতীরে কথিত ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নাটক সাজিয়ে তাঁকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে র্যাব। নিহত একরামুল হক টেকনাফ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ছিলেন। এ ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অপহরণ, অবৈধ আটক, হত্যা ও অপরাধে প্ররোচনা দেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।

