তরুণদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমুখী করতে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎসব

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৫২

তরুণ প্রজন্মকে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিতের প্রতি আগ্রহী করে তোলা এবং তাদের সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী দক্ষতা বিকাশের লক্ষ্যে ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (ডব্লিউইউবি) অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘ডব্লিউইউবি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎসব ২০২৬’।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার উত্তরায় বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে দিনব্যাপী এ উৎসবে দেশের শতাধিক কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমে শিক্ষার্থীরা তাদের জ্ঞান, সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণী চিন্তা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পান।

অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম. নুরুল ইসলাম। তাঁর উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ মোর্শেদা চৌধুরী অডিটোরিয়ামে উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক জাকি ইমাম, একাডেমিক বিষয় ও গবেষণা বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. এ.কিউ.এম. শফিউল আজম এবং বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।

উৎসবে চারটি প্রধান আয়োজন ছিল—গণিত অলিম্পিয়াড, বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি অলিম্পিয়াড, কুইজ প্রতিযোগিতা এবং প্রকল্প প্রদর্শনী। এইচএসসি, এ লেভেল ও আলিম পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। উৎসবে মোট ৩ লাখ টাকা পুরস্কার দেওয়া হয়। বিজয়ীদের নগদ অর্থের পাশাপাশি সনদ ও ক্রেস্ট এবং অংশগ্রহণকারীদের অংশগ্রহণ সনদ দেওয়া হয়।

উৎসবের অন্যতম আকর্ষণ ছিল প্রকল্প প্রদর্শনী। এতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন দল রোবোটিক্স, টেকসই উন্নয়ন ও প্রকৌশল নকশাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। দুই থেকে চার সদস্যের দলগুলো তাদের সৃজনশীলতা, প্রযুক্তিগত দক্ষতা এবং বিভিন্ন ধারণাকে বাস্তবসম্মত সমাধানে রূপ দেওয়ার সক্ষমতা তুলে ধরে।

সকাল ৯টায় নিবন্ধন ও অভ্যর্থনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। দিনব্যাপী বিভিন্ন অলিম্পিয়াড ও কুইজ প্রতিযোগিতা শেষে বিকেলে পুরস্কার বিতরণী ও সমাপনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উৎসবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক ধারণা বিনিময়, সহপাঠীদের কাছ থেকে শেখা, দলগতভাবে কাজ করা এবং নিজেদের উদ্ভাবনী চিন্তা উপস্থাপনের সুযোগ পেয়েছেন। পাশাপাশি আয়োজনটি শিক্ষার্থীদের সমালোচনামূলক চিন্তা, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ ও উপস্থাপনা দক্ষতা বিকাশে গুরুত্ব দিয়েছে।

আয়োজকদের মতে, ডব্লিউইউবি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উৎসব ২০২৬-এর মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রতি আগ্রহ তৈরি এবং উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশে একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরি হয়েছে।

ইত্তেফাক/এএইচপি