সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দেবে সরকার

শ্রেণিকক্ষ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৭:০২

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বিশেষ অনুদান দিতে নতুন করে ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদন নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। অনলাইনে আবেদন নেওয়ার পর নির্ধারিত সংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী না পাওয়ায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখা থেকে এ বিষয়ে পুনঃবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট জেলা কমিটির যাচাই-বাছাই ও সুপারিশ করা আবেদন আগামী ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।

মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের পরিচালন বাজেটের আওতায় বিশেষ অনুদান দেওয়ার জন্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মাইগভ প্ল্যাটফর্মে অনলাইনে আবেদন নেওয়া হয়েছিল। তবে প্রাপ্যতার তুলনায় প্রয়োজনীয় সংখ্যক যোগ্য আবেদনকারী পাওয়া যায়নি। বিশেষ করে প্রত্যন্ত, দুর্গম, উপকূলীয়, চরাঞ্চল, হাওর ও অনগ্রসর এলাকার সম্ভাব্য আবেদনকারীদের অনেকের অনলাইনে আবেদন করার সুযোগ সীমিত ছিল। তাই যোগ্য কেউ যাতে অনুদান থেকে বাদ না পড়েন, সে জন্য ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবার আবেদন নেওয়া হচ্ছে।

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মেরামত ও সংস্কার, আসবাবপত্র ও শিক্ষা উপকরণ কেনা, খেলাধুলার সরঞ্জাম সংগ্রহ, প্রতিষ্ঠানকে প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং পাঠাগার উন্নয়নের জন্য অনুদানের আবেদন করতে পারবে।

বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরাও দুরারোগ্য ব্যাধি কিংবা দৈব দুর্ঘটনার কারণে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

এ ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা বিশেষ অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন। দুরারোগ্য ব্যাধি বা দুর্ঘটনায় আক্রান্ত, দুস্থ, মেধাবী, এতিম, অদম্য মেধাবী ও দরিদ্র, প্রতিবন্ধী, তৃতীয় লিঙ্গ, অসহায় এবং অনগ্রসর সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে উপকূল, চর, হাওর ও প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরাও অগ্রাধিকার পাবেন।

প্রতিষ্ঠানের অনুদানের জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধান বা প্রধান শিক্ষককে নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আবেদন প্রতিষ্ঠানপ্রধান, প্রধান শিক্ষক বা অধ্যক্ষের মাধ্যমে পাঠাতে হবে। স্নাতক, সমমান ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের আবেদন করতে হবে প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ বা রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে।

প্রাপ্ত আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধান, অধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক বা রেজিস্ট্রার প্রাথমিকভাবে যাচাই করে একত্র করবেন। পরে সেগুলো সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হবে। জেলা পর্যায়ের কমিটি আবেদন যাচাই-বাছাই করে সুপারিশ করবে। সুপারিশ করা তালিকা ১৫ অক্টোবর বিকেল ৪টার মধ্যে সচিব, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে পৌঁছাতে হবে।

অনলাইনে আগে সুপারিশ করা কোনো আবেদন যেন ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবার সুপারিশ না হয়, সে বিষয়েও জেলা কমিটিকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। এজন্য অনলাইন ও ম্যানুয়াল আবেদন মিলিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরি করে তা মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে।

আবেদন ফরম মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইট থেকেও ফরম সংগ্রহ করা যাবে।

আবেদনের সঙ্গে যথাযথভাবে পূরণ করা ও প্রতিষ্ঠানপ্রধানের প্রতিস্বাক্ষর করা নির্ধারিত ফরম, প্রত্যয়নপত্র এবং জেলা প্রশাসকের সুপারিশ দিতে হবে। দুরারোগ্য, জটিল ও ব্যয়বহুল রোগের ক্ষেত্রে সরকারি হাসপাতালের নিবন্ধিত চিকিৎসকের স্বাক্ষর করা প্রত্যয়নপত্র, চিকিৎসাপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা রোগগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সার, হৃদরোগ, কিডনি ব্যাধি, হেপাটাইটিস, ডায়াবেটিস মেলিটাস, পক্ষাঘাত, বক্ষব্যাধি, কৃত্রিম অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন এবং দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনা। প্রতিবন্ধিতার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা কর্মকর্তার দেওয়া প্রতিবন্ধী সনদ জমা দিতে হবে।

আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের কপিও দিতে হবে। শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে অধ্যয়নরত থাকার প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হবে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য স্বীকৃতির কপি, ইআইআইএন নম্বর এবং প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত তফসিলি ব্যাংক হিসাবের তথ্য দিতে হবে। এর মধ্যে হিসাব নম্বর, শাখা, রাউটিং নম্বর, চেক বইয়ের পাতা ও ব্যাংক স্টেটমেন্টের কপি থাকতে হবে। শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের নিজ নামে থাকা তফসিলি ব্যাংক হিসাবের তথ্যও দিতে হবে।

যারা ইতোমধ্যে অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের নতুন করে ম্যানুয়াল আবেদন করার প্রয়োজন নেই। একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান অনলাইন ও ম্যানুয়াল—দুই পদ্ধতিতে আবেদন করলে উভয় আবেদনই বাতিল হবে।

নিয়ম অনুযায়ী, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারী চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার এই সুবিধা নিতে পারবেন। শিক্ষার্থীরা শিক্ষাজীবনে প্রতি তিন বছর পরপর আবেদন করতে পারবেন। একই সময়ে অন্য কোনো সরকারি অনুদান পেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই অনুদানের জন্য যোগ্য হবে না। তবে শিক্ষার্থীদের সাধারণ সরকারি উপবৃত্তি ও মেধাবৃত্তি এ শর্তের বাইরে থাকবে।

যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর বা অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যমে নির্মাণ, সংস্কার বা রক্ষণাবেক্ষণের কাজ চলছে, অথবা সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে এমন প্রকল্পের কাজ শেষ হয়েছে, সেসব প্রতিষ্ঠানের আবেদন বিবেচনা করা হবে না।

অনুদানের অর্থ অনলাইন ও ম্যানুয়াল—উভয় পদ্ধতিতে আবেদন করা যোগ্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে বাবা বা মায়ের সঙ্গে যৌথ নামে এবং প্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নিজ নামে তফসিলি ব্যাংক হিসাব থাকা বাধ্যতামূলক।

অসম্পূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ভুল তথ্যযুক্ত কিংবা প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ছাড়া আবেদন সরাসরি বাতিল করা হবে। আবেদন বা সুপারিশ করলেই অনুদান পাওয়ার অধিকার তৈরি হবে না। অনুদান দেওয়ার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে পাওয়া আবেদনও অনলাইন আবেদনের মতো একই যোগ্যতা, শর্ত ও অগ্রাধিকার অনুসারে জেলা পর্যায়ের কমিটি যাচাই করবে। নির্ধারিত শর্ত ভঙ্গ বা অসৎ পদ্ধতি অবলম্বনের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে মাধ্যমিক পর্যায়ের সরকারি ও বেসরকারি সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের নির্দেশনা দিতে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। একইভাবে স্নাতক ও তদূর্ধ্ব বা সমমান পর্যায়ের সাধারণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান ও রেজিস্ট্রারদেরও আবেদনকারীদের সহযোগিতা করতে বলা হয়েছে।

বিশেষ অনুদানের পুনঃবিজ্ঞপ্তিটি জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা শিক্ষা অফিস ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের নোটিশ বোর্ড ও ওয়েবসাইটসহ অন্যান্য মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারের নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

ইত্তেফাক/এসজেএস