ডিএনসিসির মশকনিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম-দুর্নীতির সত্যতা পেল দুদক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০০

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মশকনিধন কার্যক্রমে মশার ওষুধ, যন্ত্রপাতি কেনাকাটায় অনিয়ম এবং মানহীন কীটনাশক সংগ্রহের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) এনফোর্সমেন্ট ইউনিট। বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে পরিচালিত এই অভিযানে সংস্থাটির কর্মকর্তারা ডিএনসিসির ভান্ডার এবং গত বছরের কীটনাশক ক্রয় সংক্রান্ত বিভিন্ন নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। দুদকের জনসংযোগ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, একই প্রতিষ্ঠানকে বারবার ক্রয়াদেশ দেওয়া, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শন না করা এবং দরপত্রে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেই বাজারদর সংগ্রহ করে প্রাক্কলন তৈরির মতো গুরুতর অনিয়ম হয়েছে। এছাড়া ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশার ওপর কার্যকারিতা পরীক্ষা না করে শুধুমাত্র কিউলেক্স মশার ওপর পরীক্ষার প্রতিবেদন বিবেচনায় নিয়ে কীটনাশক বাছাই করা হয়েছিল বলে দুদক টিম জানতে পেরেছে। এমনকি ক্রমাগত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে এডিস মশার প্রতিরোধ ক্ষমতা ও কার্যকারিতা যাচাই করার জন্য কোনো ধরনের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিও অনুসরণ করা হয়নি। এই বিষয়ে অধিকতর সত্যতা যাচাইয়ের জন্য কীটনাশকের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মশকনিধনের পাশাপাশি ডিএনসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগও খতিয়ে দেখেছে দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে দুদক জানতে পেরেছে যে, বাসা-বাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহের ক্ষেত্রে সিটি করপোরেশন থেকে সুনির্দিষ্ট কোনো ফি বা টাকার পরিমাণ নির্ধারিত নেই। বর্জ্য সংগ্রহকারীদের ওপর করপোরেশনের কোনো নিয়ন্ত্রণ বা চুক্তি না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় খেয়ালখুশিমতো অতিরিক্ত বিল বা অর্থ আদায়ের সত্যতাও পাওয়া গেছে।

ইত্তেফাক/এএম