হুথিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দেওয়ার দ্বারপ্রান্তে পাকিস্তান-তুরস্ক

আপডেট : ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০:৫৪

ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে চলমান সংঘাত সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে রিয়াদে নিজেদের সেনাপ্রধানদের পাঠাচ্ছে তুরস্ক ও পাকিস্তান। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ত্রিপক্ষীয় যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি বাস্তবায়নে জরুরি বৈঠকের আহ্বানের পর শুক্রবার দেশ দুটির এই সামরিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির চিফ অব জেনারেল স্টাফ জেনারেল সেলচুক বায়রাকতারওগলু সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন। অন্যদিকে পাকিস্তানের ডিফেন্স ফোর্সেস প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরও শিগগির রিয়াদে পৌঁছাবেন বলে জানা গেছে। সম্প্রতি সৌদি আরবের ভূখণ্ড লক্ষ্য করে হুথিদের ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর রিয়াদ এই জরুরি বৈঠকের আহ্বান জানায়।

গত ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের যেকোনো একটি দেশের ওপর হামলা তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে। এর আগে ২৪ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইশাক দার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানের মধ্যে বৈঠকে তিন দেশের সামরিক প্রধানদের এই সম্মেলনের রূপরেখা তৈরি হয়।

তবে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে সেনা পাঠানোর বিষয়ে পাকিস্তান ও তুরস্ক সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের সঙ্গে সংঘাত, আফগানিস্তান সীমান্তের উত্তেজনা এবং অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর হামলার কারণে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এমনিতেই ব্যস্ত। অন্যদিকে ন্যাটোর প্রতিশ্রুতি এবং সিরিয়া সীমান্তের নিরাপত্তার কারণে তুরস্কের পক্ষেও সহজে সেনা পাঠানো কঠিন।

এর মধ্যে হুথি আন্দোলনের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য মোহাম্মদ আল-বুখাইতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পাকিস্তান ও তুরস্ক এই যুদ্ধে অংশ নিলে তাদের ‘লৌহ হস্ত’ দিয়ে মোকাবিলা করা হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি সাবেক পাকিস্তানি লেফটেন্যান্ট জেনারেল নোমান মাহমুদকে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির প্রথম মহাসচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তিনি রিয়াদে গঠিত সাধারণ সচিবালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।

এ ছাড়া আন্তর্জাতিক সহায়তার অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সৌদি যুদ্ধবিমানগুলোতে জ্বালানি সরবরাহে সম্মত হয়েছে। ফ্রান্সও ইয়ানবু তেল টার্মিনালের নিরাপত্তায় সেনা পাঠানোর কথা নিশ্চিত করেছে।

সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ সালেহ আল-ফাওজান হুথিদের বিরুদ্ধে সেনাসদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের সীমান্ত রক্ষাকে জীবন উৎসর্গের মতো পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

একজন আঞ্চলিক কূটনীতিকের বরাতে আল জাজিরা জানিয়েছে, হুথিরা সৌদি আরবের সামরিক ও বেসামরিক উভয় লক্ষ্যবস্তুতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবও দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।

 
ইত্তেফাক/এসজে