কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের অফিস সহকারী রেজাউল ইসলামের ঘুষ লেনদেনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে ১০০ টাকা নেওয়ার পাশাপাশি নোটিশ জারির জন্য অতিরিক্ত টাকা না দিলে নোটিশ ক্যানালে ফেলে দেওয়ার হুমকি দিতে শোনা যায় তাকে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি নজরে আসার পর তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাকে এক সপ্তাহ আগে ওই কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে।
ভিডিওতে আরও রেজাউল ইসলামকে বলতে শোনা যায়, ‘একটা নোটিশ জারি করতে ৪০+৪০, আশি টাকা, আবার এখন গদ লিখে ফেরত দিতে হবে ৪০ টাকা। ১২০ টাকা তো খরচই হয়। আর আপনি দিয়ে যাচ্ছেন ১০০ টাকা, আবার আজেবাজে কথা বলছেন—যে এইটা বাবদে আপনারা খরচ পান। কিডা আমাদের খরচ দেয়।’
ভিডিওতে থাকা এক ব্যক্তি রেজাউল ইসলামকে প্রশ্ন করেন, ‘আমাদের কি এই টাকা দেওয়ার নিয়ম নাকি?’ জবাবে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘ওইটা এসিল্যান্ডে গিয়ে বলেন গা, নোটিশ জারির জন্য গাড়ি ভাড়া চাই।’
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জমি সংক্রান্ত নামজারি, জমাভাগ, খাজনা পরিশোধ কিংবা নোটিশ জারির মতো সাধারণ সেবার জন্য ভূমি কার্যালয়ে গেলে রেজাউল অতিরিক্ত টাকা দাবি করতেন। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রেখে হয়রানি করা হতো বলেও অভিযোগ করেন তারা।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে এক ভুক্তভোগী চাহিদামতো টাকা না দিয়ে ১০০ টাকা দেওয়াকে কেন্দ্র করে রেজাউলের সঙ্গে তর্কাতর্কি হয়। এ সময় ঘটনাটি মোবাইল ফোনে ধারণ করা হয়। পরে ভিডিওটি বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার আগেই রেজাউল ইসলাম চাপড়া ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় থেকে চাঁদপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ে বদলি হয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে রেজাউল ইসলাম বলেন, ‘আমার ভুল হয়েছে। শাস্তি হিসেবে স্যারেরা বদলি করেছেন। আমি আর এমন করব না।’
কুমারখালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার বলেন, বিষয়টি নজরে আসার পর ওই অফিস সহকারীকে বদলি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সিনিয়র স্যারেরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন।
