‘নাসীরুদ্দীন-আসিফ-আম্মারের নাম ধরে তাকে বলা হতো, জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যাতন করা হবে’

আপডেট : ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৪৭

কাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে নির্যাতনের সময় পুলিশ তাকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম ধরে বলত, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যাতন করা হবে।’ এমন অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাতে ফেসবুক পোস্টে এমনটাই জানিয়েছেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। পাঠকের জন্য তার ফেসবুক পোস্ট হু্বহু তুলে ধরা হলো।

‘গাঙ পার হলে মাঝি কোন দুলাভাই?

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে লেখার পরই কাজী সালাউদ্দিন তানভীরকে পুলিশ ধরে নিয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে যা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করেছেন, তা ভয়াবহ। গ্রেপ্তারের পর তাকে আলো-বাতাসহীন সেলে রাখা হয়, চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধের বদলে অজ্ঞাত ওষুধ দেওয়া হয় এবং তার শরীরে ৭০ থেকে ৮০টি ইনজেকশন দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তার ডান হাত ও পা অবশ হয়ে যায়।
নির্যাতনের সময় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও সালাহউদ্দিন আম্মারের নাম ধরে তাকে বলা হতো, জুলাইয়ের সঙ্গে যুক্ত সবাইকে এভাবে নির্যা/তন করা হবে। কারাগারে তাকে ‘জুলাই জ/ঙ্গি’ বলেও গালিগালাজ করা হতো বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। বাহ! এটাই তারেক রহমানের সরকার। এটাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিনের পুলিশ।
অথচ একই সময়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের মামলার আসামিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়া হতো বলেও অভিযোগ করেছেন তানভীর। তার দাবি, তারা ফোন ব্যবহার করতেন, ভালো খাবার পেতেন, এমনকি কয়েকজনকে রাতে গাড়িতে বাইরে নিয়ে গিয়ে ভোরে ফিরিয়ে আনা হতো।
বছরের পর বছর বিএনপির রাজনীতিতে ‘ঈদের পর আন্দোলন’ কথাটি শুনতে শুনতে সেটিই একসময় রাজনৈতিক কৌতুকের বিষয় হয়ে উঠেছিল। বিএনপির নেতারাও বিভিন্ন সময়ে ঈদের পর আন্দোলনের ঘোষণা দিয়েছেন।
তারেক রহমান বছরের পর বছর দেশের বাইরে ছিলেন। আজ তিনি দেশে ফিরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ বছর আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক লড়াই করেছেন। এমন সময়ও গেছে, তার গুলশানের বাসার সামনে বালুর ট্রাক রেখে তাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যেতে বাধা দেওয়া হয়েছিল একটা কর্মী পাওয়া যায় নাই সেই বালুর ট্রাক সরানোর।
আজ জুলাই আন্দোলনের পর রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। অথচ সেই জুলাইয়ের মানুষদেরই এখন ‘জুলাই জ/ঙ্গি’ বলে নির্যাতনের অভিযোগ উঠছে। যাদের আন্দোলনের পর বদলে যাওয়া রাজনৈতিক বাস্তবতায় বিএনপি আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়, সেই জুলাইয়ের মানুষদের সঙ্গেই যদি এমন আচরণ করা হয়, তাহলে পুরোনো কথাটাই মনে পড়ে-

জুলাই পার হলো, মাঝির প্রয়োজনও ফুরালো? গাঙ পার হলে মাঝি কোন দুলাভাই!’

 

 

ইত্তেফাক/এএম